সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা নিয়ে সরকারপন্থি আইনজীবীরা ন্যক্কারজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোটের ফল নিজেদের অনুকূলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে এনে প্রতিকার চাইবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন এ অভিযোগ করেন তারা।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে লঙ্ঘন করে নজিরবিহীনভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অগণতান্ত্রিকভাবে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনা বারের ৭৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আইনজীবীদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছে। অবিলম্বে সাংবিধানিকভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান তিনি। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদনীন বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট বারের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ভোট পুনর্গণনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের তৃতীয় তলায় করফারেন্স কক্ষে আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির পাশাপাশি কনফারেন্স কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও একই প্যানেলের অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। গত ১৬ মার্চ ভোটগ্রহণ হয়। সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান সরকারপন্থিরা। অন্যদিকে সম্পাদক পদে নিজেদের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি জানান বিএনপিপন্থিরা। এ কারণে প্রায় দেড় মাস ফলাফল ঘোষণা নিয়ে জটিলতা চলছিল।
