উইম্বলডনের পাশেই জেল খাটছেন বেকার

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ১১:০৯ পিএম

ইংল্যান্ডের কুখ্যাত ওয়ান্ডসওয়ার্থ জেলে এখন বন্দি আছেন বরিস বেকার। সেখান থেকে অল ইংল্যান্ড ক্লাব কোর্টের দূরত্ব মাত্র ১১ মিনিটের। কিন্তু বেকার জানেন মাত্র ১১ মিনিটের দূরত্ব ঘোচানো তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। সাফল্য আর প্রতিষ্ঠার মাঝে যে দেয়াল রচিত হলো তা ভাঙবে না কোনো দিন। তিনি এখন জেলবন্দি এক কয়েদি। ৩৭ বছর আগের রূপকথার জীবন এখন ইতিহাস মাত্র!

১৯৮৫ সালে উইম্বলডনে ঘাসের কোর্টে ইতিহাস গড়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন বরিস বেকার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতে টেনিস দুনিয়ার হইচই ফেলে দেন। এরপর আরও ৫টি গ্র্যান্ড সø্যাম জিতেছেন। কিন্তু ৬টা মেজর টাইটেলের মালিককে ঠিক সংখ্যা দিয়ে মাপা যাবে না। তিনি বড় মঞ্চের তারকা খ্যাতিতে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর সেই সব খ্যাতি ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে তিনি এখন উইম্বলডনেরই কাছাকাছি ওয়ান্ডসওয়ার্থ জেলে বন্দি। এক সময় নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড বন্দি ছিলেন এই জেলে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এই জেলের অন্দরমহলের চিত্র তুলে ধরেছে। তাতেই ঘুম ছুটে যাওয়ার জোগাড় বেকার ভক্তদের। জেলের অবস্থা ভাঙাচুড়া অস্বাস্থ্যকর তো বটেই, উপরন্তু ইঁদুরে ভর্তি। এছাড়া জায়গার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি আছে এই জেলে। বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত বেকার কীভাবে সেখানে রাত কাটাচ্ছেন সেটাই বড় প্রশ্ন। আপাতত ৬ ফুট বাই ১২ ফুটের একটি ঘরে আছেন বেকার। কংক্রিটের মেঝে ময়লা। শৌচাগারের অবস্থাও তাই। আলাদা করে কোনো আসন বা কম্বল দেওয়া হয়নি। সঙ্গে ইঁদুরের উপদ্রব তো আছেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘এই ওয়ান্ডসওয়ার্থ জেলে মূলত ড্রাগজনিত এবং মানসিক সমস্যা থাকা অপরাধীরাই থাকেন। হিংসার পরিমাণ মারাত্মক। ২০২০-২১ বছরে প্রায় রোজই বন্দিদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। জেলে যাওয়ার পর প্রথমে কিছুক্ষণ রিসেপশনে অপেক্ষা করেন বেকার। এরপর তাকে নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়।’ কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে বাফটা-জয়ী পরিচালক ক্রিস অ্যাটকিন্স এক সময় এই জেলে বন্দি ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরে তিনি এভাবে লিখেছিলেন, ‘প্রথম যে জিনিসটা মনে পড়ে সেটা হলো প্রচণ্ড আওয়াজ। কেউ চিৎকার করছে, কেউ দেয়ালে মারছে, কেউ ফুঁসছে। রিসেপশন দেখে মনে হয় ১৮৯৫ সালে অস্কার ওয়াইল্ড থাকার সময় শেষবার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। জেলে পড়াশোনার সুবিধা থাকলেও তা এখন বন্ধ। জিমের অবস্থাও তাই।’

গত ২৯ এপ্রিল কারাগারে গেছেন বরিস বেকার। ২০১৭ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেও বাঁচাতে পারেননি। কারাগারে তাকে যেতেই হয়েছে। আদালত তাকে আড়াই বছরের জেলবাসসহ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে।

বরিস বেকার নাকি ইঁদুরের উৎপাত নিয়ে কারা কর্র্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেছেন। ইঁদুরের উপদ্রবে নির্ঘুম রাত কাটছে তার।

এদিকে বেকারের জেলে থাকার কষ্টের কথা শুনে নোভাক জকোভিচ বলেন, ‘আশা করব এই সময়টা ও ঠিক পার করবে। জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর যদি সেটাকে ‘সাধারণ’ জীবনযাপন বলা যায়, আশা করব ও যেন সেটা করতে পারে। তবে কিছু পরিবর্তন তো হবেই। জেলপরবর্তী জীবন কঠিন হবে।’ এক সময় নোভাক জকোভিচের প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বেকার। সে কথা মনে করে জকোভিচ বলেন, ‘হৃদয় ভেঙে গিয়েছে বেকারের জন্য। সে আমার বন্ধু, দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিন-চার বছর আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আমার যাবতীয় সাফল্যের পেছনে তার অবদান রয়েছে।’ ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করেছেন বেকার এবং জকোভিচ। এই সময়ের মধ্যে ছয়টি গ্র্যান্ড সø্যাম জিতেছেন সার্বিয়ান টেনিস তারকা। জকোভিচ বলেন, ‘আমি তার জন্য প্রার্থনা করছি। আশা করি তার শরীর এবং মন ভালো থাকবে। সেটাই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।’ বরিস বেকারের সাবেক স্ত্রী লিলি বেকার জানিয়েছেন, ‘তার জেল হওয়ার খবর শুনে আমি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। যা শুনছিলাম, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম, নিশ্চয়ই সাংঘাতিক কিছু ঘটবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত