কার্যনির্বাহী সংসদের সভা

সংসদ নির্বাচন সংগঠনে গুরুত্ব আ.লীগের

আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ০৫:১৯ এএম

প্রায় দুই বছর পর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী সংসদের সভা বসছে আজ শনিবার। সভায় আগামী সংসদ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, দলের জাতীয় সম্মেলন করার মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পাবে বলে আওয়াম লীগ সূত্রে জানা গেছে।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এটি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সভা। এর আগে করোনা মহামারীর সময়ে গত বছরের ১৯ নভেম্বর অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়ে সভা হয়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই মাস পর পর কার্যনির্বাহী সংসদের সভা হওয়ার কথা। তবে করোনার কারণে গত দুই বছর নিয়মিত সভা হচ্ছে না। সে কারণেও এবারের সভাটি গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় ১২টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে বলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা বলছেন, জাতীয় সম্মেলন ঘিরে এ সভা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ও সমসাময়িক জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনাসহ সাংগঠনিক বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। দলের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে এ সভায়।

কার্যনির্বাহী সংসদের সভা উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে নেতাদের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। ওই টেস্টে যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে, তারাই কেবল সভায় অংশ নিতে পারবেন।

সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে শোকপ্রস্তাব পাঠ, ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও ১১ জুন কারামুক্তি দিবস, ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী, ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়, সাংগঠনিক ও বিবিধ।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দলের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে এই সভার গুরুত্ব রয়েছে। তৃণমূলের সম্মেলন ও সাংগঠনিক রাজনীতি নিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকরা রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে। সাংগঠনিক রাজনীতি নিয়ে ওই সভায় নানা দিকনির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ হতে পারে কার্যনির্বাহী সংসদের ওই সভায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছিলেন (বিদ্রোহী) তাদের ব্যাপারে নমনীয় অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন দলীয় সভাপতি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে নমনীয় অবস্থানে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। এই সভায় সংগঠনের অভ্যন্তরে অনৈক্য-কোন্দল দূর করার জন্য দলীয় নেতাদের বিশেষ দিক-নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়,  কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে কাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমন্বয় টিমও গঠন হতে পারে সভায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে সভার সময়সূচি ও এজেন্ডা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শোকপ্রস্তাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন দিবসের কর্মসূচি নির্ধারণের বিষয়গুলো আছে। আগামী সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সামনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিবস আছে। এসব দিবসের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত