রবীন্দ্রনাথেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ১২:৩৪ এএম

জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব। তার নাচে বারবার উঠে আসে রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা, গল্প ও নাটক। আজ কবির জন্মদিনে তার ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

ব্যস্ততা...

রবীন্দ্রনাথ প্রতিটি দিন আমার মধ্যে বাস করেন। তার কাব্য, রস, দর্শন, ছন্দ আমাকে উদ্বেলিত করে। তবে তার জন্মদিনে ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আজ চারটি বড় অনুষ্ঠানে অংশ নেব। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক। সেখান থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টিএসসিতে একক পরিবেশনা রয়েছে সকালে। বিকেলে আমি ও আমার দল ধৃতি নর্তনালয়ের শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করব নজরুল ইনস্টিটিউটের আয়োজনে। এরপর যাব সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতে। সবশেষে আমার একক পরিবেশনা থাকবে ছায়ানট আয়োজিত ‘রবীন্দ্র উৎসব’-এ। এই অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ঈদের আনন্দ সেভাবে আমরা উপভোগ করতে পারিনি। কিন্তু প্রাণের কবির সৃষ্টিকর্ম দর্শকের সামনে তুলে ধরার যে আনন্দ, সেটি কোনো অংশে কম নয়।

পটভূমি রবীন্দ্রনাথ...

নৃত্য ক্যারিয়ারে নানা ধরনের কাজ করেছি। নজরুল, রামায়ণ, বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে নানা আইডিয়া নিয়ে মঞ্চে এসেছি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম নিয়েই। আমার করা নৃত্যনাট্যগুলোর সিংহভাগই তাকে ঘিরে। প্রথমে করি নটির পূজা। এরপর সাধনা থেকে আসে আমার নৃত্যপরিচালনা ও অংশগ্রহণে ‘তাসের দেশ’। একে একে করি চিত্রাঙ্গদা, শ্যামা, চন্ডালিকা, মায়ার খেলা, কাল মৃগয়া, ঋতুরাজ নিয়ে ‘প্রেম ও প্রকৃতি’।

স্বাচ্ছন্দ্য...

রবীন্দ্রনাথের কাজ করতে সব দিক থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। প্রথমত তার ও তার সৃষ্টির প্রতি বাঙালির যে আত্মনিবেদন, সেটি সবার ঊর্র্ধ্বে। আমরা তো দর্শকের কথা মাথায় রেখেই কাজ করি। তারা যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে সাদরে গ্রহণ করেন, অন্য কাজ ততটা করেন না বলেই মনে করি। দ্বিতীয়ত, মণিপুরি নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমার প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের গান ও ছন্দের সঙ্গে এ নাচটিই সবচেয়ে মানানসই। এ জন্য কম্পোজিশন করতে সুবিধা হয়। সব ক্ল্যাসিক্যাল নাচের মধ্য থেকে মণিপুরিকেই প্রথম রবীন্দ্রনাথ তার শান্তিনিকেতনে প্রচলন শুরু করেন। তৃতীয়ত রবীন্দ্রনাথের কাজের পরিধি অন্য সাহিত্যিকদের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি শুধু নাচের জন্যই কয়েকটি নাটক রচনা করে গেছেন, সেগুলোর জন্য আমাদের আলাদা স্ক্রিপ্ট করারও প্রয়োজন হয় না। বাকিগুলো আমরা তার দর্শনকে অনুসরণ করে, নিজের মতো করে স্ত্রিপ্ট তৈরি করে মঞ্চে উপস্থাপন করি। তিনি সর্বদাই আধুনিক। এ জন্য আমি তার গানে মণিপুরি নাচের বাইরে গিয়ে কনটেম্পরারি নাচও ব্যবহার করেছি। সেই তাসের দেশই ছিল বাংলাদেশে প্রথম কনটেম্পরারি নৃত্যভিত্তিক রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য।

কাজের সুযোগ...

শিল্পমান, শিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ আর দর্শকপ্রিয়তা তো রয়েছেই রবীন্দ্রনাথের কাজে। তারপরও তা প্রকাশের জন্য আমরা যথাযথ আর্থিক সহায়তা কারও কাছ থেকে সেভাবে পাই না। এটা একটা আক্ষেপের জায়গা। ইনফ্যাক্ট, কোনো নাচের জন্যই পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা নেই আমাদের দেশে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত