বিজয় দিবসে পুতিন

রাশিয়া তার নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছে

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ০২:০০ এএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভের ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপনের প্যারেড অনুষ্ঠানে বড় কোনো ঘোষণা ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গত কয়েক দিন ধরেই বলা হচ্ছিল, পুতিন রাশিয়ার বিজয় দিবসের দিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন এবং মারিওপোলে আটকে থাকা আজভ ব্যাটালিয়নকে ধ্বংস করতে ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেবেন। কিন্তু এগুলোর একটিও করেননি পুতিন।

গতকাল সোমবার হাজারো রুশ সেনাদের উপস্থিতিতে প্রতিবারের মতো এবারও ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারে বক্তব্য রাখেন পুতিন। এদিন দ্রুত মঞ্চে উঠতে দেখা যায় তাকে। এরপরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ যোদ্ধাদের প্রতি শোক জানান। বিজয় দিবসে উপস্থিত প্রবীণদের অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য ইউক্রেনে লড়াই করছে রুশ যোদ্ধারা।’

ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইউক্রেনে আক্রমণ প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী। একটি স্বাধীন, শক্তিশালী, সার্বভৌম দেশের সঠিক সিদ্ধান্ত।’ এ সময় পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমারা রাশিয়ার কথা শুনতে চায়নি। তাদের অন্য পরিকল্পনা ছিল। ক্রিমিয়াসহ আমাদের ভূখণ্ডে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পশ্চিমারা। মাতৃভূমি রক্ষা করা একটি পবিত্র কাজ।’ ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘অঞ্চলটি এখন রাশিয়ার মূল টার্গেট। দনবাসে আমাদের জনগণ, রাশিয়ার নিরাপত্তা ও আমাদের জন্মভূমি রক্ষা করতে আপনারা যুদ্ধ করছেন।’ বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নামার পরই রেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ শুরু করে বিশাল পদাতিক বাহিনী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ বিজয় স্মরণে রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিশাল এই কুচকাওয়াজে হাজারো সেনা অংশ নেয়। এতে ট্যাংক, রকেট, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। সমবেত সেনাদের সঙ্গে বিজয়ধ্বনি দিয়ে পুতিন বক্তব্য শেষ করেন ‘রাশিয়ার জন্য, বিজয়ের জন্য, হুররে’! তবে বিজয় দিবসে মস্কোর সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং দক্ষিণের রোস্তভ-অন-দন শহরসহ রাশিয়া জুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিমান মহড়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস সোমবার এ খবর জানিয়েছে। এতে বিস্মিত হয়েছেন বিদেশি সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যারা মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের দিকে নজর রেখে আসছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত