কোনো বিষয় বারবার করলে নাকি তার আর গুরুত্ব থাকে না। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স কাল সেই রকম কিছু বোঝালেন। তার ভাষ্য, ক্রিকেটারদের যেন বেশি চাপে ফেলা না হয়। খারাপ সময়েও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। আর এই রকম হতে থাকলে একসময় কোনো চাপই অনুভব করবে না ক্রিকেটাররা। সিডন্সের এই বক্তব্য ক্রিকেটারদের বা দলের বাজে ফর্মের সময়েও খাটবে কিনা কে জানে। তবে আপাতত শিষ্যদের আগলে রাখতে এই পথেই হাঁটলেন সিডন্স।
জাতীয় দলের সেরা ক্রিকেটারদের ‘তরুণ সময়’ দেখেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। এখন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ হয়েও তামিম-সাকিব-মুশফিকরা তার শিষ্যর মতোই। তাই শিষ্যদের আগলে রাখা একজন সেরা কোচের দায়িত্ব। তেমনি বাজে সময়ে সাহস জোগানো ও তা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে দেওয়াও কোচের হাতেই। সিডন্স তাতে কোনো অবহেলা করছেন না। কাল চট্টগ্রামে অনুশীলনে যেমন এই সময়ে রান না পাওয়া মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বেশ কিছু সময় ব্যয় করলেন। মুশফিক ফিরবেন সেরা সময়ে এটাই বিশ্বাস করেন। আবার টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হককেও সাহস জোগাচ্ছেন সুসময় মনে করিয়ে দিয়ে। সিডন্স জানালেন, ‘আমি কিছু ছোট বিষয়ে মুশির সঙ্গে কাজ করলাম। যেসব ইঙ্গিত দেখলাম এ দুদিনে আমার বিশ্বাস সে এই সিরিজটা দারুণ কাটাবে। আর মুশফিকের জন্য আমার দুশ্চিন্তা নেই, সব ক্রিকেটারই এমন খারাপ সময় পার করে। আর মুমিনুলও সেরা সময়ে ফিরবে। আমি ওকে বারবার মনে করিয়েছি যে ওর টেস্টে ৯টি সেঞ্চুরি আছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্পিনের বিপক্ষেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। পরের সিরিজেই আরেক স্পিন শক্তির দলের বিপক্ষে লড়তে হবে। এই সিরিজেও তাই চ্যালেঞ্জটা থাকছে স্পিন সামলানোর দিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতা বাংলাদেশে কাটানো সম্ভব হবে কি? এই প্রশ্নেই ক্রিকেটারদের নেতিবাচক চাপে না ফেলার পরামর্শ দেন সিডন্স, ‘আপনাদের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে আনা থামাতে হবে। মাত্র একটি সিরিজে খারাপ করেছে বলে ক্রিকেটারদের ওপর চাপ না দেওয়াই ভালো। ওদের পাশে থাকুন সব সময় ওদের মনোবল চাঙ্গা করুন। একটা সময় দেখবেন ওরা আর কোনো কিছুতেই চাপে পড়বে না।’ ক্রিকেটাররা চাপে না পড়ুক এটা সিডন্স নয়, দেশের সব ক্রিকেটপ্রেমীই চায়। কিন্তু প্রতি সিরিজেই ব্যর্থতার পথে ঢুকে ক্রিকেটাররাই নিজেদের ওপর চাপ নিয়ে আসেন।
