খাতুনগঞ্জে এক দিনে পেঁয়াজের দাম বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ০২:৩৭ এএম

সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখার প্রভাব পড়ছে বাজারে। পাইকারি থেকে খুচরাসর্বত্রই পেঁয়াজর দাম বাড়ছে। দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গতকাল মঙ্গলবার এক দিনেই পেঁয়াজের দাম বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বন্ধ থাকলে আগামী কয়েক দিনে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ৫ মের পর নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির কোনো অনুমতিপত্র দিচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ঈদ উপলক্ষে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ১ থেকে ৬ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। যে কারণে দেশে ভারতীয় পেঁয়াজের মজুদ ক্রমশ কমে আসছে। এ অবস্থায় আড়তগুলোতে পেঁয়াজের সরবরাহও কমে গেছে।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের পাইকারি মার্কেট হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৫ মের পর সরকার নতুন করে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু না করায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ কমে আসছে। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আড়তগুলোতে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিতে পারে। যদি সত্যি সত্যি তাই হয়, তাহলে পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পাইকারি বাজারে ঈদের আগে ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল তা ৩৪-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩২-৩৩ টাকায়। আর খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৩ টাকায়।

নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারের মুদি দোকান নাছির অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে। গতকাল রেয়াজ উদ্দিন বাজার থেকে পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩৮ টাকা দামে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। খুচরায় এ পেঁয়াজ তারা কেজি ৪৩ টাকায় বিক্রি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। কিন্তু ভারতীয় পেঁয়াজের দাপটে দেশীয় উৎপাদনকারীরা পেঁয়াজের দাম পাচ্ছেন না। তাই কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পেঁয়াজের যথাযথ দাম পান, সে জন্য পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ সম্ভব না হলে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

আমাদের হিলি প্রতিনিধি হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, ওই বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল ৬৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৯০২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এরপর ঈদের ছুটি শুরু হয়। ৭ মে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ঈদের আগে আমদানিকারকরা ভারতীয় পেঁয়াজ ১৪-১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তা বেড়ে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব অনুমোদন (আইপি) নেওয়া ছিল, সেগুলোর মেয়াদ ছিল চলতি মাসের ৫ মে পর্যন্ত। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১ থেকে ৬ মে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল।

তিনি বলছেন, সামনে যেহেতু পবিত্র ঈদুল আজহা, সে সময় পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। তাই পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত