ক্যাসিনোকান্ডে আলোচিত সম্রাট জামিনে মুক্ত

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ০২:২৮ এএম

ক্যাসিনোকান্ডে আলোচিত বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন। এতদিন তিনি কারা তত্ত্বাবধায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিনের কাগজপত্র পৌঁছলে সেখানেই তার মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়।

সম্রাটের মুক্তির সত্যতা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তির পর সম্রাট হাসপাতালেই আছেন।

চিকিৎসার জন্য সম্রাটকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ‘ডি’ ব্লকের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আবদুস সেলিমের বরাত দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

অবৈধ সম্পদের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান। তিন শর্তে ১০ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। শর্তগুলো হলো তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, আদালতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সম্রাটের জামিন আবেদন করা হয়। আবেদনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মাহবুব আলম দুলাল শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

সম্রাটের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, এর আগে গত ১০ এপ্রিল সম্রাট মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়েছেন। পরদিন ১১ এপ্রিল মাদক মামলায়ও জামিন পান। এবার দুদকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এ মামলায় জামিন পেলেন।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ আছে, তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো কারবার পরিচালনা করতেন।

অভিযোগ আছে, সম্রাট অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানম-ি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সম্রাটকে সহযোগী এনামুল হক আরমানসহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।

২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্রাট সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইতে দুবার এবং হংকংয়ে একবার ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া তার সহযোগী এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৩ বার ভ্রমণ করেছেন। সম্রাট ও আরমান অবৈধ অর্থ দিয়ে যৌথভাবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে বিভিন্ন মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত