কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) সমর্থক জাতীয় যুব জোটের এক নেতাকে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে আল্লারদর্গার বয়েজমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহবুব খান সালাম (৪০) দৌলতপুরের আমদহ গ্রামের আলাউদ্দিন খানের ছেলে এবং জাতীয় যুব জোটের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জেরে সালামের ওপর হামলা হয় বলে দাবি তার স্বজনদের।
হামলার শিকার হওয়ার সময় সালামকে বহনকারী প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক রিয়াজুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আল্লারদর্গা বাজার থেকে আমার ভ্যানে করে সালাম ভাই আমদাহ গ্রামে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে এক ব্যক্তি ভ্যানের গতিরোধ করে সালাম ভাইকে ভ্যান থেকে নামতে বলেন। সালাম ভাই ভ্যান থেকে নামামাত্রই সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও ৮-১০ জন লোক তাকে ঘিরে ফেলে মারধর করতে শুরু করে।’
নিহত সালামের স্ত্রী সিমুয়ারা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সিমুয়ারা সাংবাদিকদের জানান, গত বুধবার কুষ্টিয়ার আদালতে কয়েকজন মাদককারবারির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ওই বিষয়ে তার স্বামী নিজের ফেইসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন ব্যক্তি সালামকে খুঁজতে বাড়িতে যায়। ওই সময় সালাম বাড়িতে ছিলেন না। তবে ওই ব্যক্তিদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় বিষয়টি দৌলতপুর থানায় জানান তারা।
সিমুয়ারা বলেন, ‘সালাম মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ চৌধুরী টোকনের সঙ্গে সালামের বিরোধ চলছিল। হাসপাতালে সালামের যতক্ষণ জ্ঞান ছিল সে বলছিল টোকেন ও তার চাচাতো ভাই সেলিম চৌধুরীর লোকজন রাতের আঁধারে হঠাৎ এই হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালামকে কুপিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, সালামকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে মারা যান। সালামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সালামের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবলীগ নেতা টোকন চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তার চাচাতো ভাই দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় করতে প্রতিপক্ষের লোকজন এসব কথা ছড়াচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মতো নোংরা রাজনীতি আমি করি না।’
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক জাবীদ হাসান জানান, মাহবুব খান সালাম হত্যায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
