বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ সীমিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কভিডপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না পর্যন্ত সব ধরনের এক্সপোজার ভিজিট/স্টাডি ট্যুর/এপিএ ও ইনোভেশনের আওতাভুক্ত ভ্রমণ এবং ওয়ার্কশপ/সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর আর নয়। যদি প্রয়োজন না থাকে। এক্সক্লুসিভলি যদি কারও কোনো বিশেষ কারণে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয় তারা অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশে যাবেন। আদার ওয়াইজ অন্যরা যাবে না। এটা কমানো হচ্ছে। এখন যেসব সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে যাচ্ছেন এদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অনেক আগে।
অপ্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের অনেক নজির রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন নিয়ে সরকারি খরচে বিদেশ যাওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমেও। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা-সমালোচনার ইতি টানতে সরকার অবশেষে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করল।
রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে দামি গাড়ি ও নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মুর্হর্তে আমাদের বিলাসী (লাক্সারিয়াস) পণ্য বিশেষ প্রয়োজন নেই। সেগুলো আমরা চাইলে দুই মাস নাও কিনতে পারি। তিন-ছয় মাস পরেও কিনতে পারি। বিলাসী পণ্য আমদানি না করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ হবে না। আমরা সময়টাকে কার্যকরভাবে ম্যানেজ করতে চাই। এখন কোভিড-১৯ নাই। শুধু যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। আমরা সবাই এটা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছি। যতদিন বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুরাহা হবে না ততদিন পর্যন্ত কঠিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে এই নয় যে দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে।
