৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে যে ছেলেকে পেলে-পুষে বড় করেছেন, কোটি টাকা খরচ করে লেখাপড়া শিখিয়ে পাইলট বানিয়েছেন, রাজকীয় আয়োজন করে বিয়ে দিয়েছেন, সেই ছেলের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিলেন মা-বাবা! আদালতে করা মামলায় সঞ্জীব (৬১) ও সন্ধ্যা (৫৭) প্রসাদ দম্পতি অভিযোগ করেছেন, বিয়ের ছয় বছর পেরোলেও নাতি বা নাতনি পাওয়ার খুশি থেকে বঞ্চিত করে ছেলে ও ছেলেবউ তাদের ‘মানসিক হয়রানি’ করেছে। এক বছরের মধ্যে যদি ছেলের ঘরে নাতি বা নাতনির জন্ম না হয় তাহলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ৫ কোটি রুপি দাবি করেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সঞ্জীব ও সন্ধ্যা প্রসাদের দাবি, ছেলে শ্রেয়ি সাগরকে (৩৫) বৈমানিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তার বিয়ের বিশাল আয়োজনের পেছনে তারা নিজেদের সঞ্চয় খরচ করেছেন। কিন্তু ছেলে তাদের অবসরের একজন সঙ্গী হিসেবে কোনো নাতি-নাতনি দিতে পারেনি।
সঞ্জীব প্রসাদ জানান, ছেলেকে গড়ে তুলতে তিনি নিজের সব সঞ্চয় খরচ করেছেন। ২০০৬ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে ৬৫ হাজার ডলার খরচ করেছেন। ২০০৭ সালে ছেলে দেশে ফিরলেও চাকরি হারায় সে। পরে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। পরে সে পাইলটের চাকরি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ঘটা করে বিয়েও দেন। তাদের আশা ছিল,অবসরজীবনে তারা একজন নাতি অথবা নাতনি পাবেন যার সঙ্গে তাদের সময় কাটবে।
সঞ্জীব প্রসাদ বলেন, ‘আমার ছেলের বিয়ের ছয় বছর পার হয়েছে অথচ এখনো তারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেনি। সময় কাটানোর জন্য আমাদের কাছে যদি অন্তত একজন নাতি বা নাতনি থাকত হয়তো আমরা কষ্ট সহ্য করে চলতে পারতাম।’
প্রসাদ দম্পতির আইনজীবী এ কে শ্রীবাস্তব বলেন, ‘মানসিক নিষ্ঠুরতার’ শিকার হয়ে এই দম্পতি ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ দাবি করেছেন। সব মা-বাবারই স্বপ্ন থাকে, তারা একদিন দাদা-দাদি বা নানা-নানি হবেন। তারা অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, হরিদ্বারের আদালতে প্রসাদ দম্পতির আরজি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১৭ মে আদালতে শুনানি হতে পারে। এ মামলার বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য তার ছেলে বা স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
