বিক্রমাসিংহেকে প্রত্যাখ্যান বিরোধীদের কারফিউ প্রত্যাহার

আপডেট : ১৫ মে ২০২২, ০১:৩৯ এএম

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল সামাগি জানা বালাওয়েগায়া। দলের একাধিক আইনপ্রণেতা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি সামাগি জানা বালাওয়েগায়ার কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী জোট সরকারে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে দেশে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

সামাগি জানা বালাওয়েগায়ার এমপি ও জ্যেষ্ঠ নেতা ইরান বিক্রমারত্নে বলেন, ‘এটা ইতিমধ্যে পরিষ্কার; নতুন প্রধানমন্ত্রী আসলে প্রেসিডেন্টের আজ্ঞাবহ। অর্থাৎ রিমোট কন্ট্রোল এখনো আছে প্রেসিডেন্টের হাতেই। এই দেশ চায় রাজাপাকসেরা বাড়ি ফিরে যাক এবং আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গত প্রায় দু’মাস ধরে শ্রীলঙ্কায় সরকার পতন আন্দোলন চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ সাধারণ জনগণ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন একদল বিক্ষোভকারী। তাদেরই একজন চামালাগে শিবকুমার। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল তখনই আন্দোলন থামাব, যখন আমাদের জনগণ ন্যায়বিচার পাবে।’ শিবকুমার আরও জানান, চলমান এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ। কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, সেটি বড় ব্যাপার নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের মুক্তি; সেই মুক্তি যতদিন না আসে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।

গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের সর্বজ্যেষ্ঠ সদস্য মাহিন্দা রাজাপাকসে। নিজের ছোট ভাই ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। কিন্তু তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন টেম্পল ট্রিজের কাছে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন সরকার সমর্থকরা। তাদের হামলায় অন্তত ২০ জন বিক্ষোভকারী আহত হন। এ ঘটনার পর পুরো শ্রীলঙ্কা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। দেশের ছোট-বড় সব শহরের জনগণ রাস্তায় নেমে আসেন এবং পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে দেশজুড়ে নিহত হন ৭ জন, আহত হন ৩ শতাধিক।

৯ মে রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। এই পরিস্থিতিতে ১০ মে ভোরে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে সপরিবারে কলম্বো ত্যাগ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ত্রিনকোমালিতে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। তারপর গত ১১ মে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হন দেশটির রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) শীর্ষ নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। এর আগে পাঁচবার বিভিন্ন মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। বর্তমান পার্লামেন্টে অবশ্য তার দলের আসন মাত্র একটি। ১২ মে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার কাছে শপথ নেওয়ার পর ১৩ মে দায়িত্ব বুঝে নেন রনিল। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চান তিনি। প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ দমনে জারি করা কারফিউ গতকাল প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের স্বল্পতার কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং বাড়বে; প্রতিদিন সাড়ে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকবে শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ এলাকা। শ্রীলঙ্কার পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের চেয়ারম্যান জনকা রতœায়েকে এক বিবৃতিতে এ সম্পর্কে বলেন, ‘অপরিশোধিত জ্বালানি তেলভর্তি একটি জাহাজ গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রীলঙ্কার বন্দরে অবস্থান করছে, কিন্তু মূল্য পরিশোধের মতো যথেষ্ট অর্থ না থাকায় সেই তেল খালাস করা যাচ্ছে না। তবে সংকটের তীব্রতা কমাতে আমরা জলবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করি এই খাতে ৬০ শতাংশ উৎপাদন বাড়াতে পারব আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত