ইতালি যাওয়ার পথে জিম্মি, টাকা না দিলে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি

আপডেট : ১৫ মে ২০২২, ০৮:৫৩ এএম

হবিগঞ্জের ৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে দেশীয় মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে। ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে গত বুধবার তাদের জিম্মি করা হয়। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে পরিবার সাড়ে ৮ লাখ করে টাকা না দিলে তাদের হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দালালরা। জিম্মি কয়েকজন এরই মধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়েছেন।

জিম্মিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুল মুকিত খানের ছেলে মো. সাজানুর রহমান (৩৫), সজলু মিয়ার ছেলে আফজল মিয়া (২৯), সেকুল মিয়ার ছেলে নাসির (২০) ও হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে উজ্জ্বল (২৭)।

সাজানুর রহমানের ভাই মো. অছিউর রহমান জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সাজানুর ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ে। মৌলভীবাজারের মর্তুজা নামে এক দালাল ধরে সে লিবিয়ার বেনগাজি পৌঁছে। তাকে ছাবু মিয়া নামে বাংলাদেশি আরেক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয় মর্তুজা। একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়লে ৩ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়ানো হয়। এরপর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থানরত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের ইমামবাড়ি গ্রামের দালাল তৈমুর মিয়া সাজানুরকে ইতালি পাঠানোর দায়িত্ব নেয়। তার পরিবার বর্তমানে হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছে। এখন তৈমুরই সাজানুরকে জিম্মি করে সাড়ে ৮ লাখ টাকা দাবি করছে। সোমবারের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে। সাজানুরের পাঁচ মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। দালালের হুমকি পেয়ে পরিবারের সবাই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কান্নাকাটি করছে। ভূমধ্যসাগরে নৌযানে আটকে রেখে তারা সাজানুরকে নির্যাতন করছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দালালরা হাতিয়ে নিয়েছে। আবারও ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এত টাকা কোথায় পাবে তা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

জিম্মি মো. নাসির মিয়ার বাবা সেকুল মিয়া বলেন, ‘নৌকা চালানোর আয়ে চলে আমার সংসার। জমিজমা বেচে ছেলের জন্য ৯ লাখ টাকা দালাল তৈমুরকে দিয়েছি। এখন আরও সাড়ে ৮ লাখ টাকা না দিলে তারা আমার বুকের ধনকে মেরে ফেলবে বলছে। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দয়া করে আমার ছেলেকে বাঁচান।’


 
আরেক জিম্মি আফজল মিয়ার বাবা সজলু মিয়া বলেন, ‘পাঁচ মাসেও দালালরা আফজলকে ইতালি পাঠাতে পারেনি। জমিজমা বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা দিয়েছি। দালালরা আরও টাকা চাচ্ছে। পরিবারের সবাই ছেলেকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।’

জিম্মি উজ্জ্বলের শ্বশুর মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমাদের না জানিয়ে ধারদেনা করে উজ্জ্বল বিদেশ যায়। আমার মেয়ের একটি সন্তান রয়েছে। এখন শুনছি সে দালালদের হাতে বন্দি। জামাতার কিছু হলে মেয়ে ও নাতির কী হবে, তা ভেবে পাচ্ছি না।’

জিম্মিদের হবিগঞ্জে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশি দালালদের হাতেই জিম্মি রয়েছে তাদের স্বজনরা। দালাল চক্রের হোতা হবিগঞ্জের তৈমুর মিয়া। কারও হাতে নগদ টাকা নেই। ফলে স্বজনদের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

দালাল তৈমুর মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে জিম্মিদের পরিবার যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন, ত্রিপোলিতে অবস্থানরত স্বামীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে তার কোনো যোগাযোগ নেই। ৯ জনকে জিম্মি করে রাখার বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত