ধূমপানের ভিডিও ভাইরাল

চার স্কুলছাত্রীর বহিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ০১:৪৫ এএম

স্কুল পোশাক পরিহিত অবস্থায় ধূমপান করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চার ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে গাজীপুরের সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। তবে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীদের ভিডিওটি কে ধারণ করেছে বা কে ছড়িয়ে দিয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানে না স্কুল কর্র্তৃপক্ষ। সেটি কখন ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্কুল সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি ভাইরাল হলে গত ২০ এপ্রিল নজরে আসে স্কুল কর্র্তৃপক্ষের। তখন স্কুল বন্ধ থাকায় ওই চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ঈদের ছুটি শেষে স্কুল খোলা হলে গত মঙ্গলবার ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে আনেন অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান। অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে যেতে বলা হয়।

৪২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় পাশের একটি কোচিং সেন্টারের গলিতে ধূমপান করছে তিন ছাত্রী।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার অভিভাবকদের ডেকে এনে চার ছাত্রীকে মৌখিকভাবে স্কুলে না আসার জন্য নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি গাজীপুর শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রকাশ্যে ধূমপান করার অপরাধে চার স্কুলছাত্রীর ভিডিও ধারণ এবং বহিষ্কারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধরে নিলাম ওই শিশুরা একটি ভুল করে ফেলেছে। এ নিয়ে তাদের তিরস্কার কিংবা মৌখিকভাবে শাসন করা যেত। কিন্তু তা না করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত একেবারেই যুক্তিহীন। যতদূর জানতে পেরেছি তারা স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে এই কাজ করেনি। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত অনৈতিক এবং এটি ভবিষ্যতে তাদের মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব  ফেলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোমলমতি ওই শিশুদের ভিডিও ছড়িয়ে একটি গর্হিত অপরাধ করা হয়েছে। এর ফলে ওই কোমলমতি শিশুরা যে সাইবার অপরাধের শিকার হলো, তাদের মানসিক ক্ষতি হলো এই অপরাধের বিচার হবে কি না কিংবা এর দায় এখন কে নেবে?’   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত