ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদী খননের সময় অনেকগুলো মাথার খুলি ও হাড়গোড় পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে শহরের পাশে সেতুর নিচে এগুলো পাওয়া যায়।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। ৯ মাসের যুদ্ধে পুরো বাংলাদেশ ছিল যেন বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারা দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা এবং নিরীহ লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করে গণকবর দেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মহেশপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্যাম্প করেছিল। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ধরে এনে সেখানে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। পরে লাশ গর্তে পুঁতে রাখা হতো। এতগুলো মাথার খুলি ও হাড় সেসব গণকবরের অংশ বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, নদী খননের পর বৃষ্টিতে হাড়গোড় ও খুলিগুলো বের হয়ে যায়। কয়েক যুবক দুপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে দেখতে পেয়ে সেগুলো গুছিয়ে রাখে। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মহেশপুরে ক্যাম্প করে পাক বাহিনী অনেক মানুষ ধরে এনে হত্যা করেছে। হয়তো তারই স্মৃতিচিহ্ন এসব কঙ্কাল বলে মনে করছেন তিনি।
মহেশপুর পৌর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুস ছাত্তার বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে কপোতাক্ষ নদী খনন হচ্ছে। স্থানীয়রা এখানে মাথার খুলি ও হাড় পেয়ে আমাদের খবর দেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো দেখে গণকবরের অংশ মনে হয়েছে।’
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এটিকে মুক্তিযুদ্ধকালীন চিহ্ন বলে জানিয়েছেন। কঙ্কালগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
