মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কেড়ে নিল পুরো একটি পরিবার। দুই মোটরসাইকেল ও মাটিবাহী ট্রাক্টরের ত্রিমুখী সংঘর্ষে চার বছরের মেয়েসহ নিহত হয়েছেন এক দম্পতি ও আরেক মোটরসাইকেল আরোহী। গতকাল রবিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া গতকাল সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর তুরাগ কামারপাড়া এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী এবং ভোরে মাগুরার শেখপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য।
রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু : তুরাগ কামারপাড়া এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় আম্বিয়া বেগম (৪৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার ছেলে মহিউদ্দিন (১৬)।
গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রোসাদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় দুজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা আম্বিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া আম্বিয়া বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত মহিউদ্দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, গতকাল সকালের ওই দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলের চার আরোহী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ছোট বিড়ালদহ গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি আবদুল মান্নান (৪৮), নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মো. আক্তার হোসেন, তার স্ত্রী বীথি খাতুন (৩৩) এবং মেয়ে মরিয়ম জান্নাত (৪)।
পবা থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, প্রথমে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর ধাক্কা লাগে ‘মাটি ভরাট করা ট্রাক্টরের সঙ্গে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আব্দুল মান্নান ও চার বছরের শিশু মরিয়ম জান্নাত। আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় মরিয়মের বাবা আক্তার ও মা বীথিকে। হাসপাতালে নেওয়ার পর বীথিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রামেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. বিল্লাল হোসেন জানান, হাসপাতালে ভর্তির পরই বীথিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার স্বামী বাবুল আক্তারকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বিকেল ৫টার দিকে তিনিও মারা যান।
আক্তারের ভাই রুহুল আমিন জানান, আক্তার হোসেন তার মোটরসাইকেলে স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে বিয়ের দাওয়াতে নওগাঁর নিয়ামতপুরে যাচ্ছিলেন। তারা সপরিবারে রাজশাহীতে থাকতেন। আর মান্নান রাজশাহী থেকে মান্দা যাচ্ছিলেন। পথে দুই মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা চারজনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। সে সময় একটি ট্রাক্টর তাদের চাপা দেয়।
ওসি ফরিদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক্টর ফেলে পালিয়েছেন। পরে ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটিও থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে মাগুরায় যাত্রীবাহী পরিবহন ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে আবু হানিফ (৬০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা-যশোর সড়কের শেখপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ যশোর জেলার পৌর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আবদুল গনির ছেলে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের এসআই সেলিম জানান, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের সঙ্গে মাগুরামুখী একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসযাত্রী আবু হানিফের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পরিবহন ও ট্রাকের চালক-হেলপারদের পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
