মোবাইল জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ০২:২৫ এএম

অবৈধ জ্যামার, রিপিটার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর র‌্যাব দাবি করেছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা থেকে এসব ডিভাইস অবৈধ উপায়ে আনা হচ্ছে। বেশি দামে এসব নিষিদ্ধ ডিভাইস বিক্রি করা হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। গত শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। এ সময় উপস্থিত ছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতিনিধিদল।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার, ২৪টি জ্যামার অ্যান্টিনা, ৪টি এসি অ্যাডাপ্টর, ৩টি পাওয়ার কেব্ল, ৩টি মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার, ৯টি বুস্টারের আউটডোর অ্যান্টিনা, ২৬টি বুস্টারের ইনডোর অ্যান্টিনা, ৩৭টি বুস্টারের কেব্ল ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো মো. আবু নোমান (২৮) ও সোহেল রানা (৩৭)। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের জন্য এসব ডিভাইস দেশে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে ব্যবহার করতে পারে।

বিটিআরসির উপপরিচালক (ডিডি) এসএম গোলাম সরোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্লক করার জন্য অথবা ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য মূলত এসব ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। নাশকতার জন্য বা অন্যান্য উদ্দেশ্যেও এসব ডিভাইস ব্যবহার হতে পারে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিইও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১টায় মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করে আসছে। গ্রেপ্তার নোমানের আইটিস্টল.কম.বিডি নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেজ রয়েছে। এছাড়া সোহেল রানার সোআইএম বিডি নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেজ রয়েছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে তারা আইপি ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টারসহ এর যন্ত্রাংশ বিক্রি করত।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না সে ব্যাপারে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর পাইনি। যেহেতু উত্তর পাইনি সে কারণে ধারণা করছি, অবশ্যই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল, নাশকতার ষড়যন্ত্রও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।’

কাদের কাছে এসব অবৈধ ডিভাইস বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ‘দুই বছরে দুই শতাধিক জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয় করা হয়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জেনেছি। শিগগিরই তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত