উন্নয়ন বাজেটে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এক হাজার ৭৫৪ প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় হবে। আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভায় এ উন্নয়ন বাজেট বা সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) উপস্থাপন করা হবে।
উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উন্নয়ন বাজেট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সব থেকে বড় কাজ। যা মঙ্গলবার এনইসি সভায় উপস্থাপন করা হবে। আমাদের কাজ শুধু উপস্থাপন করা। সোনার বাংলা গড়ায় উন্নয়নের চালক আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা অনুমোদন করবেন। সরকারের আয় ও ব্যয়ের কথা বিবেচনা করেই উন্নয়ন বাজেট করা হয়। তিনি আরও বলেন, এবারের উন্নয়ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সক্ষমতা অর্জন ও তা টেকসই করা, দেশের চার থেকে পাঁচটি মেগা প্রকল্প মেচিউর পর্যায়ে আছে, সেগুলোকে দ্রুত শেষ করা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর কথা বিবেচনা করেই উন্নয়ন বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন এডিপির প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার এডিপির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো এবারও একক খাত হিসেবে শীর্ষে থাকছে যোগাযোগ ও পরিবহন। এডিপিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এই খাতে। বিপুল এ অর্থ সড়ক, রেল, আকাশপথসহ যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে ব্যয় করা হবে। প্রস্তাবিত এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বরাদ্দের প্রায় ৩০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। সে হিসাবে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ ২১ শতাংশ বেশি।
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ। এডিপিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত হিসেবে থাকছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; বরাদ্দ থাকছে ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ১৬ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষায় ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা ৩৮ লাখ টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ১২ শতাংশ। গৃহায়ন ও গণপূর্তেও বরাদ্দ ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ৮ শতাংশ। স্থানীয় সরকারের জন্য ১৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। কৃষি খাতে ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ১২ শতাংশ। পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদে বরাদ্দ ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ৪ শতাংশ। শিল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ২ দশমিক ২০ শতাংশ। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বরাদ্দ ৪ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
