সাংবাদিকের মাকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’

আপডেট : ১৭ মে ২০২২, ০৬:০৮ এএম

পিরোজপুর শহরের সিআইপাড়া মহল্লার বাড়ি থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমীর খসরুর মা সিতারা হালিমের (৭৪) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের মেঝেতে তার লাশ পড়ে ছিল।

সিতারা হালিম পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রয়াত আবদুল হালিম হাওলাদারের স্ত্রী। স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে সিতারা হালিমকে শ^াসরোধে হত্যার পর ঘরের মালামাল লুট করেছে। নিহতের মেয়ে সালমা আরজু জানান, বাড়িতে তার মা একা থাকতেন। রবিবার রাতে সবশেষ মায়ের সঙ্গে তার কথা হয়। আজ (গতকাল) সকালে বাড়ি রং করার জন্য মিস্ত্রি আবদুল কুদ্দুস এসে ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। পরে তিনি বাড়ির নিচতলার ভাড়াটেকে জানালে সবাই মিলে ডাকাডাকি করলেও দরজা না খুললে বাড়ির পেছনের দিকের দরজায় গিয়ে সেটি খোলা পান। ঘরে ঢুকে তারা মায়ের লাশ মেঝেতে পান। ভাড়াটে ফোনে জানানোর পর স্বামীকে নিয়ে গিয়ে তিনিও মায়ের লাশ পান। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং ঘরের আলমারি ভাঙা ও আসবাব এলোমেলোভাবে পড়ে ছিল। খবর দিলে পুলিশ এসে মাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বাগত হালদার জানান, সিতারা হালিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার গলায় চিকন কোনো কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সাংবাদিক আমীর খসরু বলেন, ‘আমার মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

স্থানীয় কাউন্সিলর আবদুল সালাম বাতেন বলেন, ‘পরিবারটি আমার ওয়ার্ডের স্বনামধন্য পরিবার। তাদের কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড, তাও বুঝতে পারছি না।’

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় সিতারা হালিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চারাবাড়ি এলাকা থেকে গতকাল সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির রাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, ধলেশ^রী নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে উদ্ধার করা হয়। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। শুনেছি লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। পানিতে পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা গর্জনবাগান এলাকা থেকে গত রবিবার রাতে নুরুন্নাহারের (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি এলাকার মৃত আবুল কাশের স্ত্রী বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য রফিক।

স্থানীয় ছৈয়দুল আমিন ও নুরুল মোস্তফা ভুলু নুরুন্নাহারকে তাদের বোন দাবি করে জানান, নুরুন্নাহার রবিবার ভোরে রান্নাবান্না করেন। ভাগনে রুবেল তা খেয়ে নৌকা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেলে তিনিও প্রতিদিনের মতো কাজের সন্ধানে বের হন। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না আসায় জাহাজপুরা গর্জনবাগান পাহাড়ি এলাকায় লাশ পান। খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। বোনকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা জানেন না তারা। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তারা।

বাহারছড়া শামলাপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ জানান, নুরুন্নাহারের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত