চা বিরতির পর আর ব্যাটিংয়ে নামেননি তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে নিয়ে তৃতীয় সেশন শুরু করেন মুশফিকুর রহিম।
ডান হাতের পেশিতে টান পড়েছে তামিমের। জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে পানিশূন্যতা দেখা দেয় তার শরীরে। এতে পেশিতে টান পড়ে এই ড্যাশিং ওপেনারের। যার ফলে বিশ্রামে আছেন তামিম। ২১৭ বলে ১৫ চারে ১৩৩ রান করেছেন তিনি।
প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় সেশনে বেশ সফল শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরে দ্রুত তিন টপ-অর্ডারকে হারায় বাংলাদেশ। তবে সেই বিপর্যয় সামাল দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার তামিম ও মুশফিক। ৩৬ রানের জুটি গড়ে চা বিরতিতে যান তারা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২৪৬ রান করেছে। ব্যাটিংয়ে আছেন মুশফিক (২৬) ও লিটন (১৪)। টাইগাররা এখনো পিছিয়ে আছে ১৫১ রানে।
দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় ওভারে টাইগারদের প্রথম উইকেট হিসেবে আশিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকভেলার গ্লাভস বন্দী হন মাহমুদুল হাসান জয়। টাইগার ওপেনারের ১৪২ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চারে। টেস্টে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি।
এরপর জোড়া আঘাত হানেন পেসার কাসুন রাজিথা। নাজমুল হোসেন শান্তর (১) পর বিদায় নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক (২)। দ্বিতীয় দিন মাথায় আঘাত পাওয়া বিশ্ব ফার্নান্দোর ‘কনকাশন’ বদলি হিসেবে তৃতীয় দিনে মাঠে নামেন রাজিথা।
তার আগে ক্যারিয়ারের ৩২তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন তামিম। ৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। আর জয় নামেন ৩১ রান নিয়ে। আগেরদিন ১৯ ওভারে ৭৬ রান নিয়ে দিন পার করেছিল বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্যারিয়ারের ১০ম সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মালিকও হলেন এই ড্যাশিং ওপেনার। চট্টগ্রাম টেস্ট খেলতে নামার আগে ৬৫ টেস্টে তামিমের রান ছিল ৪৮৪৮। তার চেয়ে ৮৪ রানে এগিয়ে ছিলেন মুশফিক। ৮১ টেস্টে তার রান ৪৯৩২ রান। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পথে মুশিকে টপকে গেলেন তামিম।
আর মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ে টাইগারদের আরেকটি অপেক্ষা ঘোচালেন তিনি। পাঁচ বছর পর টেস্টে ওপেনিংয়ে শতরানের জুটির দেখা পেল বাংলাদেশ।
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ১৯৯ এবং দিনেশ চান্দিমালের ৬৬ রানের সুবাদে চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে করে ৩৯৭ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন স্পিনার নাঈম হাসান।
