আমলা সামলানোর হুকুমনামা

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ১০:১৫ পিএম

চাণক্য সঠিকভাবেই শনাক্ত করেছিলেন যে, রাষ্ট্রের তহবিল যারা ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তারা সেই তহবিল চেখেটেখেও দেখেন। চাখতে গিয়ে কেউ কেউ বড় কামড়ও বসিয়ে দেন। সম্প্রতি একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব তার সহকর্মী অপর একজন সচিবের বাড়িতে সুইমিং পুল কেমন করে হলো সে প্রশ্ন সাংবাদিকবেষ্টিত অবস্থায় জিজ্ঞেস করেছেন। মাত্র একটা সুইমিং পুল। ছোটখাটো একটা উপসাগর তো আর নয়। হয়তো শ্বশুরবাড়ি থেকে পেয়েছেন। শ্বশুর হয়তো মহাসাগরের মালিক, দু-একটা সুইমিং পুল দিতেই পারেন। আমলাদের নিয়ে আর একটা সমস্যা হচ্ছে যতক্ষণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তারা ততক্ষণ মুখ খোলেন না।

বাংলাদেশের একজন প্রধান বিচারপতি/রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যেই বলেছেন, রাষ্ট্র নিজেই যদি দুর্নীতি লালন করে, তাহলে দুর্নীতি দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রের হয়ে দুর্নীতি কিংবা নিজের জন্য দুর্নীতি আমলারাই করেন কিংবা প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, আমলার সহায়তায় কিংবা নিষ্ক্রিয়তায় রাজনীতিবিদরা তাদের হিস্যাটা তুলে নেন। প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো বাংলা সরকারও এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল।

১৯৩ বছর আগের হুকুম : বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের (নির্বাহী ও বিচারিক উভয়ই) সততার প্রশ্ন উঠলে সৎ কর্মকর্তারা মেনে নেবেন যে, বিচার বিভাগের বিভিন্ন স্তরে কিছু অসৎ কর্মকর্তা থাকতে পারেন অন্য কেউ হয়তো একে আদালত অবমাননার শামিলও মনে করতে পারেন। রাজস্ব বিভাগের বেলাতেও তাই। বিচারকের বাড়িতে অনাকাক্সিক্ষত ব্যক্তির আসা-যাওয়ার নজির রয়েছে। বাংলা সরকার যথার্থই অনুধাবন করল বিচারকের বাড়িতে অনাকাক্সিক্ষত ব্যক্তির গমন আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করবে। ১৯৩ বছর আগে ১৬ জুন ১৮২৯ বাংলা সরকার হুকুম জারি করে :Judicial and Revenue officers should not transact public business in their private dwellings. সোজা কথা, অফিসের কাজ বাসায় নেওয়া যাবে না। সরকারি কাজের জন্য বাসা নিরাপদ স্থান নয়। কাজ বাসায় নিয়ে গেলে ‘মক্কেল’ চলে আসার সম্ভাবনা থাকবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তার উচ্চাভিলাষী স্ত্রীও প্রভাব বিস্তার করবেন। এতে সুবিচার প্রতিষ্ঠার পথ যেমন সংকীর্ণ হয়ে আসবে, তেমনি পারিবারিক সময়ে স্ত্রী ও সন্তানরাও স্বামী ও পিতার সান্নিধ্য লাভ থেকে বঞ্চিত হবে। একজন ঠিকাদারের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের একটি তুলনামূলক বিবরণী পাওয়া গেছে। স্বাধীনতার আগে কাজ আদায়ের জন্য এবং বিলের অর্থ নগদায়নের জন্য ঘুষের টাকা দিতে তাকে কর্মকর্তাদের বাসায় যেতে হতো। আর স্বাধীনতার পর কর্মকর্তা ঘুষের টাকা নিতে নিজেই চলে আসেন ঠিকাদারের বাড়িতে।

ঋণ ও ফৌজদারি অপরাধ : ১৮৬০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক হুকুমনামায় বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঋণগ্রস্ততার কারণে কিংবা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা হলে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রেপ্তারের সময় থেকে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত বলে গণ্য হবেন এবং মামলা নিষ্পত্তির পর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না। আমলাদের ঋণগ্রস্ততা এবং ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর সরকারের জন্য বিব্রতকর।

অর্থবছরের শেষ মাসে খরচের উৎসব : বাজেটে বরাদ্দ টাকার কিছু অংশ এখনো খরচের বাকি, কিন্তু অর্থবছর ফুরিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তড়িঘড়ি করে অর্থবছরের শেষ মাসে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করা ও ভুয়া বিল দাখিল করে টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা তখনো ঘটত। এ-কালে জুলাইয়ে নতুন অর্থবছরের শুরু। সুতরাং জুন মাসের নির্ধারিত তারিখের আগে বিল লাগাতেই হবে আরম্ভ হয় অর্থব্যয়ের মচ্ছব। এ প্রবণতা এখন কিছুটা কমলেও জুলাই মাসেও ব্যাক ডেটে বিল পাস করে কোষাগার শূন্য করা হতো। সে সময় অর্থবছর শুরু হতো এপ্রিলে। তখনো নিয়ম ছিল নির্ধারিত সময়ে বাজেটে বরাদ্দ অর্থ খরচ না হলে রাষ্ট্র তা ফিরিয়ে নেবে। ১৮৭০ সালের ১০ মার্চ আদেশ জারি হলো : নতুন বছরে পূর্ববর্তী বছরের অব্যয়িত বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে, কেবল এ কারণে অপ্রয়োজনীয় কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না।

আমলার ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে না : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের উত্তরাধিকারই বাংলা সরকার। রবার্ট ক্লাইভের হাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন। বাণিজ্যিক লুণ্ঠন তাকে বিপুল বিত্ত ও বৈভবের অধিকারী করে। বিব্রত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তার বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ডের নিন্দা জানায়। ঔপন্যাসিক থ্যাকারের পিতামহ উইলিয়াম থ্যাকারে কোম্পানির অফিসার হিসেবে সিলেট জেলার কালেক্টর ছিলেন। কিন্তু নেটিভ এজেন্টের সহায়তায় তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন, জমি ঠিকা প্রদানের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যান। কোম্পানি ও সরকার থ্যাকারের এই বাণিজ্য সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেনি। তাকেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জবাবদিহি করতে হয়। পরবর্তী সময়ে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের কোনো কোনো সদস্য, বিচার বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বনামে-বেনামে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারিতে জড়িয়ে পড়েন।

১৮৬২ সালের মে মাসে একটি সিদ্ধান্ত সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হয় : এখন থেকে কোনো পাবলিক সার্ভেন্ট সরাসরি কোনো ব্যবসায় জড়িত হবেন না, কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার অংশও হতে পারবেন না।

ব্যবসায়িক বিনিয়োগ : ১৮৬৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় করা ছাড়া অন্য কোনো ধরনের পাবলিক বা দাতব্য ফান্ডে কোনো ধরনের বিনিয়োগ করতে পারবেন না। সরকারি কর্মকর্তা এ কাজে ব্যবহৃত তহবিল সরকারি তোষাখানা, ব্যাংক অব বেঙ্গল বা এর কোনো শাখায় জমা রাখতে পারবেন না।

অধস্তন কর্মচারী ব্যক্তিগত কর্মচারী নন : সরকারি কর্মকর্তারা তাদের অধস্তন কর্মচারীদের, যারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ও ভাতা নিয়ে থাকেন, অনেক সময় ব্যক্তিগত কর্মচারী মনে করে থাকেন। তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে নিয়োগ করেন, তাদের দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করান। সরকার এ বিষয়টিও হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করেনি। ১৮৬৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা একটি পত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে : তারা যেন ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কোনো কাজে অধীন কোনো কর্মচারীকে নিয়োগ না করেন।

প্রাইভেট এজেন্ট দিয়ে চাঁদা আদায় : ১৮৭১ সালের ৭ জুলাই জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো প্রাইভেট এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন না। জনকল্যাণের লক্ষ্যে হলেও তাদের মাধ্যমে কোনো তহবিল সংগ্রহ করা যাবে না। স্কুল, মাদ্রাসা, মন্দির ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামে এজেন্টদের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে তা পুরোপুরি বা আংশিক আত্মসাতের অনেক ঘটনা ঘটেছে।

ঘুষের টাকায় স্ত্রীর নামে জমি কেনা : নর-নারীর সম্পদ বৈষম্যের ওপর অনেক বক্তব্য থাকলেও শহরাঞ্চলে, উচ্চমূল্যের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে জমির মালিকানায় কখনো কখনো মহিলারা পুরুষদের ছাড়িয়ে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগের প্রথম ক্ষেত্র স্ত্রীর নামে জমি কেনা। অবৈধ ও অনৈতিক উপার্জন ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত শ্বশুর দিয়েছেন জাতীয় দোহাই দিয়ে কর্মকর্তারা পার পেয়ে যান। একসময় বিচারকদের স্ত্রীর নামে জামি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। ১৮৭১ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলা সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো অধস্তন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার স্ত্রী নিজে জমি কিনলে বা তার নামে কেনা হলেও, এই জমি ওই কর্মকর্তাই কিনেছেন বলে সরকারিভাবে বিবেচিত হবে।

পত্রিকা পড়ুন নিজের টাকায় : কর্মকর্তারা সুশিক্ষিত হবেন, এই তাগিদ বরাবরই ছিল। কিন্তু সব সময় তা যেন রাষ্ট্রীয় অর্থে না হয়, তা-ও বিবেচনায় আনতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত খরচে তার পছন্দ অনুযায়ী খবরের কাগজ এবং সাময়িকী সামর্থ্য অনুযায়ী কিনতে পারেন, পড়তে পারেন। কিন্তু একপর্যায়ে দেখা যায়, এ খরচের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারের ওপর। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২ আদেশ হলো সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় অর্থে দৈনিক পত্রিকা কিংবা সাময়িকী রাখতে পারবেন না।

দুর্বোধ্য স্বাক্ষর দেবেন না : দুর্বোধ্য স্বাক্ষর প্রদানের প্রবণতাটি অনেক দিনের। কোনো কোনা ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা নিজের স্বাক্ষর নিজের নয় বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে সব বিল এবং অর্থ ছাড়করণের আদেশে সব নেটিভ অফিসারকে (ইংরেজ অফিসাররা এই আদেশের আওতামুক্ত) পূর্ণাঙ্গ স্বাক্ষর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইংরেজিতে অথবা স্থানীয় ভাষায় তারা পুরো নাম লিখবেন। এই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে ৫ ফেব্র“য়ারি ১৮৭৪। ৭ এপ্রিল ১৮৭৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে পূর্ণ নাম লেখার বাধ্যবাধকতার মধ্যে আনা হয়। শুধু আদেশ লিখে দুর্বোধ্য স্বাক্ষর করাই যথেষ্ট নয়।

অর্থ, মজুরি, সম্মানী নেওয়া যাবে না : বাংলা সরকারের কোনো কর্মকর্তা অন্য কোনো সরকারের কাছ থেকে, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে সেবার বিনিময়ে কোনো ধরনের অর্থ, মজুরি, সম্মানী ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারবেন না। বিশেষ ক্ষেত্রে শুধু সরকারের অনুমোদনে তা গ্রহণ করা যাবে। ২৮ আগস্ট ১৮৭৫-এ সিদ্ধান্তটি দাপ্তরিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ২৪ জুলাই ১৮৭৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সব সরকারি কর্মকর্তাকে উপহার, উপঢৌকন, পুরস্কার কিংবা অনুরূপ কোনো কিছু গ্রহণ করা থেকে আদেশ দিয়ে বিরত করা হয়। তবে কয়েকটি ফুল বা ফল কিংবা তুচ্ছ মূল্যসামগ্রী নেওয়া যাবে। কিন্তু ফুল, ফল বা তুচ্ছ সামগ্রী গ্রহণ করাকেও এই বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অর্থের বিনিয়োগ : ভারত সরকারের (লক্ষণীয়, বাংলা সরকারের নয়) অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ তুলে জনস্বার্থে হলেও বিনিয়োগ করা যাবে না।

আত্মীয়দের চাকরি দেওয়া : ১৭ জুলাই ১৮৮০ বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১৫-জে-তে বলা হয়েছে, মুনসেফ বা সাব-অর্ডিনেট জজ আদালতের নিম্নপদস্থ কোনো চাকরিতে তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন বা তাদের ওপর নির্ভরশীল কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন না। এ ধরনের ঘটনা অবহিত হওয়ামাত্র জেলা জজ সেই নিয়োগে বাধা দান করবেন। নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা জেলা জজের। সুতরাং নিয়োগকারী এবং নিয়োগপ্রার্থী সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত না হয়ে তিনি সম্মতি জ্ঞাপন করবেন না।

সৎ উদ্দেশ্যে হলেও ট্রেজারির টাকা সরানো যাবে না : ২৫ জুলাই ১৮৭৭, সিদ্ধান্ত নম্বর ২০৫৫। এতে বলা হয়েছে : ভারত সরকারের কাছ থেকে পূর্বমঞ্জুরি না নিয়ে বিনিয়োগের জন্য ট্রেজারি থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। প্রাদেশিক সরকারের অর্থের বেলাতেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

[উৎস :Hand-book of the Circular Orders and Notification ১৮৮২ সালে বর্ধমান জজ কোর্টের সেরেস্তাদার চন্দ্রনাথ ঘোষ বাংলা সরকারের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।]

লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত