সয়াবিন বা পাম তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষা ও রাইস ব্রান তেলের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। গমের পর্যাপ্ত মজুদ আছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, পেঁয়াজের সংকট তৈরি হলেই আমদানি চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে আমাদের দেশে তেলের দাম বেড়েছে। চাহিদার ৯০ ভাগ আমদানি করা হয়। প্রতিনিয়ত দাম ওঠানামা করলেও আমাদের বেসিক থিওরি অনুযায়ী মাসে একবার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এফবিসিসিআই তেলের দাম নির্ধারণে থাকতে চায়। আমরা সম্মতি দিয়েছি। এখন কী করতে হবে আমাদের। আমরা কি শুধু সয়াবিন ও পাম তেলের ওপর নির্ভর করব নাকি অল্টারনেটিভ মার্কেটে ঢুকব। আলোচনা হয়েছে রাইস ব্রান ও সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানো যায় কি-না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সম্পূর্ণ চাপ দিলে ৭ লাখ মেট্রিক টন রাইস ব্রান উৎপাদন সম্ভব। এটা করা গেলে চাহিদার প্রায় ২৫ ভাগ পূরণ করা যাবে। এখন উৎপাদন হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার মেট্রিক টন। এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হবে। আমরা রাইস ব্রান রপ্তানি করে তেলের দিকে যাব কি-না। রাইস ব্রান তেলের দাম কেমন হবে। সয়াবিনের চেয়ে বেশি হলে মানুষ কিনতে পারবে না। দাম যাতে কাছাকাছি থাকে সেটাও দেখতে হবে। এই তেলের উপকারিতা মানুষকে জানাতে হবে। সত্যি কথা সয়াবিন ও পাম তেলের চেয়ে রাইস ব্রান শরীরের জন্য অনেক ভালো। এ কথা কিন্তু ডাক্তারদের বলতে হবে। সবাই বলে প্রচার করে আগাতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রচারটা করতে হবে। কয়েকদিন আগে একটা নিউজ দেখলাম ডা. দেবী শেঠি বলেছেন সয়াবিন খেলে কী ক্ষতি হয়। গ্লোবাল এই ক্রাইসিসটাকে আমাদের মিলিতভাবে ফেস করতে হবে। ক্যানলাও শরীরের জন্য ভালো। পুষ্টি আসে। তো দাম একটু বেশি পড়বে। আমরা সেটাও লক্ষ রাখছি। প্রকৃত খরচটা বের করার চেষ্টা করছি। যদি শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করা যায়। সমান সমান রাখা গেলে অ্যাটলিস্ট সোর্স হলো এবং শরীরের জন্য একটা তেল পাওয়া গেল। কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে বিশাল পরিমাণ একটা জমি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে যদি আমরা সরিষা করি তাহলে সেখান থেকে তেল আসতে পারে। এখন এই ক্রাইসিসটা আমাদের কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু একটা জিনিস হচ্ছে সেটা হলো নতুন নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছি। নেগেটিভের মধ্যে একটা পজিটিভ দিক আছে। উই মে ফাউন্ড সোর্স। একটাই মেসেজ দিতে চাই, ভোজ্য তেলের যে মজুদ আছে আমরা আশা করছি সংকট হবে না। কয়েক দিন ধরে বাজারে বাতাসে বাতাসে একটা কথা উড়ছে বাংলাদেশে গম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। হ্যাঁ ভারত অন্য দেশগুলোতে গম রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। আমাদের চাহিদার ৬৩-৬৪ ভাগ গম ভারত থেকে আসে। একথা শোনার পর থেকেই দামে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কথাটা একেবারেই ঠিক না। জি টু জি পদ্ধতিতে ভারত থেকে যত খুশি গম আনা যাবে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যেসব ব্যবসায়ী গম আমদানি করে শুধু একটা চিঠি দিয়ে অনুমতিটা করে নেবে। সেই অনুমতিতে শতভাগ গম আমদানিতে কোনো বাধা নেই। তাই ভারতের নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মেঘ দেখলেই বলে ঝড় এসে গেল। এছাড়াও আমাদের দেশে এই মুহূর্তে গমের যে মজুদ আছে তাতে আমাদের ভয়ের আশঙ্কা নেই। মজুদ যা দরকার সেটা আমাদের আছে। ভারতের গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে না। এমন কোনো অবস্থা হয়নি পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তা করার ব্যাপার আছে। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে পেঁয়াজ রয়েছে। সুখের বিষয় পেঁয়াজের উৎপাদনকারীরা ভালো দাম পাওয়ার কারণে গত বছর আনুমানিক ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন করেছে। ৬ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বছরে আমদানি করতে হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় একটা নতুন পেঁয়াজের বীজ উদ্ভাবন করেছে সেটা গ্রীষ্মে আবাদ হবে। বছরে ২ লাখ টন বেশি উৎপাদন হওয়ার এই ধারা যদি বজায় থাকে। তাহলে ২০২৫ সাল নাগাদ আমাদের আর পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না। তেলের এই সংকট কতদিন থাকবে সেটা জানা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সয়াবিনের জন্য ব্রাজিল বা আর্জেন্টেনা যেতে হবে। পাম তেলের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। তবে শুনেছি ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি শুরু করলে বাজারে একটু প্রভাব পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে না কমলে আমরা কোনোভাবেই দাম কমাতে পারব না। সে জন্যই বিকল্পটা খুঁজছি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেলের দামের খবর নিয়ে সঠিক খবর জানানোর দায় সবার বলেও জানান তিনি। সঠিক খবর তৃণমূলে পৌঁছে না দিলে সব দায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘাড়েই চাপবে।
×
