জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের আত্মজীবনীর খবর আসার পর থেকেই বিষয়টি আলোচনায়। অবশেষে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। এই বই নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ
আকবর ফিফটি নটআউট...
আমার আত্মজীবনীর শিরোনাম ‘আকবর ফিফটি নটআউট’। বইটির অনুলেখক সোহেল অটল। গত শনিবার বইটির প্রকাশিত হয়েছে। সত্যকে সহজ ও সাধারণভাবে গ্রহণ করার মানুষ তেমন পাওয়া যায় না। তবে আমি সেটা করি। সাহসের সঙ্গে সত্য প্রকাশে একটুও পিছপা হইনি। আমার বইয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বইটিতে উঠে এসেছে সত্যিকারের আসিফের গল্প। এতে তুলে ধরা হয়েছে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা। শৈশবের সংগ্রাম, সেখান থেকে একজন শিল্পী হয়ে ওঠা, এই সময়ে কাছের মানুষদের নিয়ে নানা অভিজ্ঞতাসহ যাপিত জীবনের অনেক ঘটনা বইটিতে স্থান পেয়েছে। যে গল্প কাউকে বলতে ভয় পাইনি। এটাই আমার সততার শক্তি। যারা সত্য পছন্দ করেন, তাদের বইটি ভালো লাগবে। যারা লুকিয়ে দেখতে পছন্দ করেন ও গোপনে কাজ করেন, তাদের সমস্যা হবে। বইটির ইংরেজি সংস্করণও শিগগিরই প্রকাশ হবে।
প্রসঙ্গ বাবা...
আমার বাবার প্রসঙ্গ দিয়ে বইটি শুরু হয়েছে। বাবাকে নিয়ে বিতর্কের অবসান চাই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কিছু লোক শুধু রাজনৈতিক কারণে আমাকে ছোট করার জন্য আমার বাবাকে যুদ্ধাপরাধী বানিয়ে, আমাদের মিউজিকের কিছু লোক লিফলেট ছেড়েছে, ফেইসবুকে বাজে কথা বলেছে। ফেইসবুকে অনেকেই বলে আসিফের বাবা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন, রাজাকার ছিলেন। আমার বাবা কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, মুসলিম লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, রাজনীতি করাও নিষিদ্ধ নয়। মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে আমি দলের বাইরে যেতে পারিনি, কিন্তু দলে থেকে ১০০ প্লাস মুক্তিযোদ্ধাকে আমি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে রক্ষা করেছি, আমার বড় ভাই আতাউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা। মারা গেছেন কিছুদিন আগে, মামাতো ভাই... এমন আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে বের করে আমাদের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করিয়ে আগরতলায় ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠিয়েছেন। এই বিতর্ক শেষ করতে হবে। একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান হিসেবে বাঁচতে চাই না। যদি এখনো কেউ তদন্ত করে প্রমাণ করতে পারে আসিফ আকবরের বাবা যুদ্ধাপরাধী, আমি আমার বাবার মরণোত্তর বিচার চাই।
আত্মজীবনী...
জীবনী গ্রন্থ লেখা কঠিন কাজ। কারণ, জীবনী গ্রন্থে সত্যি কথা বলতে হয়। সে সত্যি কখনো অন্যের কিংবা নিজের বিরুদ্ধেও চলে যায়। সত্যি গ্রহণের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও থাকতে হয়। বইটি লিখতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। অবশেষে বইটি প্রকাশ পেল। বইতে অনেক ঘটনা ও তথ্য অনেকের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। আশা করব, সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করার মতো সাবালকত্বের প্রমাণ রাখবেন সংশ্লিষ্টরা।
