অতিরিক্ত সময়ের চার মিনিট শেষ হতেই যেন ঘাম দিয়ে জ্বর নামল বসুন্ধরা কিংসের। জিততে হলে পুরো ৬১ মিনিট নুহা মারংয়ের এনে দেওয়া লিডটা ধরে রাখতে হতো। সেটা করতে গিয়ে অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ায় সারাক্ষণই গোল খেয়ে বসার শঙ্কা ছিল। মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন মাজিয়ার জোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে কিংসের রক্ষণভাগ। তাতে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে কাল এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে শুভ সূচনা করেছে কিংস।
প্রিমিয়ার লিগের মধ্যবর্তী দলবদলে কিংস উড়িয়ে আনে গাম্বিয়ার হয়ে চার ম্যাচ খেলা স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত নুহা মারংকে। যদিও লিগে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বাধ্য হয়ে এএফসি কাপে বিকল্পের সন্ধানে নেমে দুই আফ্রিকান সুদি আব্দুল্লাহ ও চিনেদু ম্যাথিউকে দলে নেয় কিংস। তবে তাদের কেউই পাননি ভারতের ভিসা। অগত্যা নুহাতেই আস্থা রেখে মাজিয়া বধের ছক কষতে হয় কিংস কোচ অস্কার ব্রুজনকে। ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহো ও মিডফিল্ডার মিগেল ফিগেইরা ছিলেন আক্রমণ সাজানোর দায়িত্বে। সামনে নুহাকে রাখায় একটা অস্বস্তি মাজিয়ার রক্ষণে কাজ করেছে শুরু থেকেই। চতুর্থ মিনিটে ইয়াছিন আরাফাতের ক্রসে শুয়ে পড়ে মাথা ছুঁইয়েছিলেন নুহা। তবে এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তা বাইরে যায়। ১১ মিনিটে গোল পেতে পারতেন রবিনহো। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে গিয়ে রবিনহো বক্সের ঠিক ওপর থেকে অসাধারণ শট নেন, যা মাজিয়ার নেপালিজ কিপার কিরণ কুমার লিম্বুকে পরাস্ত করলেও সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল ভালো জায়গায় পেয়েও জালে রাখতে ব্যর্থ হন ইব্রাহিম। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লিম্বুকে ঠিকই হারিয়ে বুনো উল্লাসে মাতেন নুহা। নিজেদের অর্ধ থেকে মাজিয়ার বক্সে সোহেল রানার ফেলা লম্বা বলে আলতো হেডে আগুয়ান লিম্বুকে পরাস্ত করেন নুহা।
ম্যাচের ৬০ মিনিট পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক চলছিল। এরপর থেকেই মাজিয়া চেপে ধরে কিংস রক্ষণকে। তবে বিশ্বনাথ ঘোষ, তারিক কাজী, ইয়াছিন আর ইরানিজ খালেদ সাফিই ভুল করেননি বলেই জিকোকে বড় কোনো পরীক্ষায় পড়তে দেননি। তাতে গেলবারের মতো মাজিয়ার বিপক্ষে জয়ের স্বস্তি নিয়ে অভিযান শুরু হলো কিংসের। গ্রুপের অন্য ম্যাচে হয়েছে মহা অঘটন। লোকাল জায়ান্টস মোহনবাগানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে গোকুলাম কেরালা।
