সেঞ্চুরি ও প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক। নিজের জন্য স্মরণীয় ও উদযাপনের দিনে সংবাদ মাধ্যমেও এলেন মুশফিক। পুরো দিন ব্যাটিংয়ের ক্লান্তি ছাপিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা-সমালোচনায় নিজের মন্তব্য জানালেন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার। প্রাণবন্ত এই সংবাদ সম্মেলন পুরোটাই পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো এত গরম সামলে এরকম ধীর ও লম্বা ইনিংস খেলা কতটা কঠিন ও প্রথম হিসেবে ৫ হাজার রানের অনুভূতি কেমন?
মুশফিক : দুদিন ফিল্ডিং করার পর ব্যাট করা কঠিন ছিল। আর যেটা বললেন, হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো লাগছে যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমি ৫ হাজার রান করেছি এবং আশা করছি এটাই প্রথম না, আমি মনে করি যে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা অনেক ক্যাপাবল এরকমৃশুধু সিনিয়র আমরা যারা আছি তারা না। যারা জুনিয়র আছে ইনশাল্লাহ ওরাও আমি মনে করি যে ভবিষ্যতে দেখতে পারব যে তারাও ৮ হাজার ১০ হাজার রান করছে টেস্টে।
তাদের বিপক্ষে ভালো স্কোরগুলো করেছেন। শ্রীলঙ্কা প্রিয় প্রতিপক্ষ কি না?
মুশফিক : প্রিয়ৃসত্যি কথা বলতে আপনি খেয়াল করে দেখেন ওদের বিপক্ষে রান করা খুব কঠিন না। ওরা যেভাবে ফিল্ড সেট করে এটা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো আক্রমণাত্মক না। ওরা চায় যে হ্যাঁ আপনি খেলতে খেলতে হয়তো একটা ভুল করবেন। কিন্তু এরা (শ্রীলঙ্কা) একটু ভিন্ন, এরা চেষ্টা করে যে আপনার ধৈর্যের সঙ্গে খেলতে। এদের সঙ্গে ওই চ্যালেঞ্জটা আমাকে আরও মোটিভেট করবে।
প্রথম টেস্টের পর কি ভেবেছিলেন ৫ হাজার রান করবেন? তখন লক্ষ্যটা কী ছিল?
মুশফিক : সে-সময় তো লক্ষ্য ছিল কীভাবে দ্বিতীয় টেস্টটা খেলব। খুব একটা ভালো যায়নি প্রথম টেস্টটা। তিনটা সংস্করণে যদি সব সময় আমাকে বলে নিশ্চিতভাবে টেস্ট ক্রিকেট বেশি। আমি প্রথম দিকে কিপার ব্যাটসম্যান ছিলাম। পরে নামতাম ও খুব বেশি সময় ব্যাট করতে পারতাম না। আর টেস্টে তো আপনাকে যাচাই করা হয় সেঞ্চুরি দিয়ে। অবশ্যই আমার ইচ্ছে ছিল যে যত বেশিদিন টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারি এবং বড় বড় অর্জন যেন করতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবে। আলহামদুলিল্লাহ যে জায়গায় আছি, হয়তো বা আরও ভালো করতে পারতাম। ভালোর তো আসলে শেষ নেই। কিন্তু তারপরও যে জায়গায় এখন আছিৃভালো।
প্রথম ৫ হাজার রানের মালিক হলেন। এখান থেকে আপনার চাওয়াটা কী?
মুশফিকুর : কিছু চাওয়ার নেই। বাংলাদেশে আসলে অভিজ্ঞতার দাম নেই। ১৭ বছর যে কাটিয়েছি এটাই অনেক বড় ব্যাপার। আমি আজ ৫০০০ রানের জন্য কেক কেটে ড্রেসিংরুমে যে উদযাপন করছিলাম তখন জয়কে প্রথম কেক খাইয়ে বলেছি যে তুই এখানে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান। তোর সম্ভাবনা আছে ১০ হাজার রান করার। আমি আশা করি তুই সেদিন অন্য নতুন কাউকে এরকম কেক খাইয়ে দিবি।
বাংলাদেশের বড় অর্জনে আপনার নাম থাকে। ২০০ করা এখন ৫ হাজার। নিজেকে কি লাকি মনে করেন?
মুশফিকুর : আমি যে ভালোটা করব এটা আপনার বন্ধু ভাই করলে এটা ভালোই লাগে। তামিম আমার ২০০ রানের রেকর্ড ভেঙেছিল। এরপর ওই আমাকে বলেছে যে দুই-তিন বছরে তুই আবার ২০০ করবি। আমি মনে করি এটা খুব ভালো প্রতিযোগিতা এটা থাকলে দলেরই ভালো। আর লাকির যে বিষয়টা বললেন– এই যে কপালটা দেখছেন (কপাল দেখিয়ে) হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসির। আমি যখন উঠে অনুশীলন করি তখন আপনাদের অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। তো আল্লাহর রহমতে কিছুটা হলেও তো আল্লাহ দেখেন।
সেঞ্চুরির পর আপনার স্ত্রী আপনাকে অবসর নিতে বলার বিরুদ্ধে বলে একটা পোস্ট দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ব্যাপারে আপনার কী মন্তব্য?
মুশফিকুর : প্রথমত আমি তো দেখিনি কী লিখেছে, এখন দেখলে বোঝা যাবে। আর দ্বিতীয়ত যেটা বললেন স্বাভাবিকভাবেই কোনো খেলোয়াড়ের জন্য কাম্য না (খারাপ করলে সমালোচনা)। কারণ একমাত্র বাংলাদেশেই দেখেছি একটা সেঞ্চুরি করলে ব্র্যাডম্যানের চেয়ে বড় কিছু হয়ে যায়। আবার দুই-তিনটা ম্যাচ রান না করলে গর্তের মধ্যে ঢুকতে হয়। জানি না এটা কারা করে, এটা তাদের সমস্যা। আর আমার এরকম (টি-টোয়েন্টি অবসর) কোনো ইচ্ছে নেই আপাতত। ইচ্ছে বাংলাদেশের জন্য যতটুকু সুযোগ আসবে এবং আমাকে যে যে ফরম্যাটে চাইবে আমার ফিটনেস ধরে রেখে ততদিন ভালো করার চেষ্টা করব।
