শচিন টেন্ডুলকার একবার বিপদে পড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া সফরে। প্রিয় শট কাভার ড্রাইভ, অথচ তা খেলতে গিয়েই দুবার আউট। এরপর পণ করলেন যে কাভার ড্রাইভই খেলবেন না। তাতে এমনই ফল দিল পরের টেস্টে সিডনিতে ২৪১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ফেলেন। পরে অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৪৮ করেছিলেন। প্রিয় শট খেলার লোভ সামলানো যে কোনো ব্যাটারের জন্য কঠিন। মুশফিকুর রহিমও সামলাতে পারেন না। রিভার্স সুইপ তার প্রিয় শট এবং বারবার এই শট খেলার ঘোষণাও দিয়েছেন। অথচ এর ফাঁদে পড়েই তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অনেকবারই আউট হলেন গত কয়েক বছরে। অবস্থা এমন যে প্রায় প্রতি ইনিংসেই তিনি রিভার্স সুইপ একটি হলেও খেলবেন। সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ায় অবাক কান্ড চট্টগ্রামে। ২৮২ বলের ইনিংসে মুশফিক প্রিয় শট রিভার্স সুইপ করেননি। দলের প্রয়োজনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ২৭০ বলে সেঞ্চুরি করে তবেই ফিরেছেন। ২৭ মাস ও ১৮ ইনিংস বাদে পেলেন নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি।
মুশফিক ভুল করলেও তার চেয়ে পরিশ্রমী ও শৃঙ্খল ক্রিকেটার বাংলাদেশের আর কেউ নেই। নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতে নিয়মিতই কাজ করেন। অনুশীলনেও থাকেন সবচেয়ে উদ্যমী। ছুটির সময়েও ব্যাট-বলে নিয়ে নেটে চলে আসার উদাহরণও তৈরি করেছেন। তাই তিনি বাংলাদেশের ডিপেন্ডেবল ও তরুণদের কাছে অনুকরণীয়। অথচ ওই একটি শট তার নামের সঙ্গে যাচ্ছিল না। এমন না রিভার্স সুইপ ক্রিকেটীয় শট না, বা এটা খেলাই যাবে না। এই শটে ছক্কা মেরে বাহবা কুড়ানো ব্যাটসম্যান কম নেই। তবে মুশফিক এমন সময়গুলোতে রিভার্স করেন যে তার মতো শৃঙ্খল চরিত্রের কারও সঙ্গে যায় না। হয়তো টেস্টে লাঞ্চের আগে, না হয় ওয়ানডেতে ফিফটি করার আগে-পরেৃ আর সেজন্যই যত সমস্যা।
চট্টগ্রাম টেস্টের সেঞ্চুরিতে সেসবের কিছুই ছিল না। নিজেকে এমন নিয়ন্ত্রণ করে বদলে নেওয়া একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব। তাই মুশফিকের ইনিংসটিও হলো ব্যতিক্রম। ক্যারিয়ারে আগের সাত সেঞ্চুরির (ডাবলসহ) প্রতিটিতে কমপক্ষে ১২টি বাউন্ডারি ছিল তার ব্যাটে। অথচ কাল চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গেও মাত্র তিনটি! সেঞ্চুরি করতে খেলেছেন ২৭০ বল। মুশফিক সবশেষ হায়দরাবাদ টেস্টে এমন ধীর ব্যাটিং করেছিলেন। সেঞ্চুরি করেছিলেন ২৩৫ বলে। জানালেন এই ইনিংসে নিজের বদলের কারণ ব্যাটিং উইকেট, ‘যেসব উইকেটে ডিফেন্স করে টিকতে পারবেন সেখানে তো আর অন্য শট খেলার দরকার হয় না। আর আমি মনে করি এটা খুব ভালো উইকেট। এখানে যদি ডিফেন্স ভালো করেন তাহলে স্ট্রেইট ব্যাটে ভালো খেলা যায়, অন্যান্য শট দরকার হয় না।’
তবে আবার যে রিভার্স করতে মুশফিককে দেখা যাবে না এমন না। কাল সংবাদ সম্মেলনে শুরুতেই ভেবেছিলেন এই সংক্রান্ত প্রশ্ন আসবে। তা না হওয়ায় একটু অবাকই ছিলেন। অবশ্য উত্তরের শেষে আবারও এই শট খেলার ঘোষণা দিয়ে রাখলেন, ‘আমি তো ভেবেছিলাম প্রথম প্রশ্নই এটা হবে যে- সুইপ শট খেলে আউট হলেন (হাসি)। আর একটা জিনিস বলি, আমি কিন্তু আমার দুটি ডাবল সেঞ্চুরিতে রিভার্স শট সফলভাবে খেলেছি। ওই দুটো ডাবল সেঞ্চুরির ভিডিও যদি কারও কাছে থাকে দেখবেন তিন চারটা রিভার্স সুইপ করা আছে। এটা আমার খুব পছন্দের শট, একই সঙ্গে হাই রিস্ক শটও। তবুও আমি ভবিষ্যতে এই শট খেলা থেকে বিরত থাকব না।’
শচিনকে কাভার ড্রাইভে আউটের পরিকল্পনা করে সেই সিডনি টেস্টে নেমেছিলেন স্টিভ ওয়াহরা। অথচ শচিন যে ওই শট খেলাই বন্ধ করবেন ভাবেননি তা স্বীকারও করেছেন। মুশফিকও কাল চট্টগ্রামে রিভার্স করবেন না সেটা কেউ ভাবেনি। তবে এসব সমস্যা না। শট না নিয়ে সফল হওয়ার মতো শটটি নিয়েও যদি সফল হন তাহলে তো আর কোনো বিতর্ক থাকে না।
