ভর্তুকি না দিলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে ৫৮ শতাংশ

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ০২:১৬ এএম

ভর্তুকি না দিলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম দাঁড়াবে ৮ টাকা ১৬ পয়সা।

বিইআরসি বলেছে, পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে। এ লোকসান থামাতে সরকার যদি ভর্তুকি দেয় তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে না। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বর্তমান দামই বহাল থাকবে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ১৭ পয়সা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিইআরসি পিডিবির পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করে।

পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়লে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিদ্যুতের দামও বাড়বে। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ (ডিপিডিসি) দেশের ছয়টি বিতরণ সংস্থা এখন পর্যন্ত খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়নি। এর আগে গত মাসে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষ হয়েছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে আদেশ দেবে বিইআরসি।

প্রতি বছর সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। গত বছরও এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ বাড়লে ইউনিটপ্রতি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৯.১৪ এবং ১২৫ শতাংশ বাড়লে ৯.২৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে পিডিবি। আর গ্যাসের মূল্য না বাড়লে ৬৫.৫৭ শতাংশ বা ৮ টাকা ৫৬ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল পিডিবি।

এ প্রস্তাবের ওপর গতকাল গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি বলেছে, যদি সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি না দেয় তাহলে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ১৬ পয়সা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়বে। অর্থাৎ পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে আগের চেয়ে ২ টাকা ৯৯ পয়সা বাড়বে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ইউনিটপ্রতি ৫.১৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। গত এক যুগে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং খুচরা দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, ‘প্রশ্ন উঠতে পারে গ্যাসের দামের গণশুনানির ঘোষণা না দিয়ে কেন আমরা বিদ্যুতের দামের শুনানি নিচ্ছি। আপনারা জানেন, দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের পলিসি সিদ্ধান্তের বিষয় থাকে, সেটি দালিলিকভাবে প্রমাণের বিষয় থাকে। সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শেষ হলে গ্যাসের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, কমিশন তার আইনি প্রক্রিয়াগত কারণে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি নিচ্ছে। পাইকারি দাম ঘোষণা হলে খুচরার ওপর প্রভাব পড়বে। তাদের কোনো প্রস্তাব তারা পাননি।

কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল জলিলের নেতৃত্বে শুনানি গ্রহণে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. কামরুজ্জামান।

পিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধির কারণে চলতি বছর ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকা। পাইকারি দাম না বাড়লে এ বছর ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে পিডিবির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত