সেই ইউএনওর অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ মিলল তদন্তে

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ০২:৩২ এএম

টাঙ্গাইলের বাসাইলের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের সঙ্গে কলেজছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে যৌন হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি কমিটি। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহানা নাসরিন তার তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে সোহানা নাসরিন বলেছেন, মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে তার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগকারী কলেজছাত্রীর সঙ্গে মনজুর হোসেনের শারীরিক সম্পর্ক ছিল কি না তা ডাক্তারি পরীক্ষা/উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

টাঙ্গাইলের বাসাইলের ইউএনও মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রী যৌন হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখা থেকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক গত ১৪ মার্চ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগকারী কলেজছাত্রী, বাসাইলের সাবেক ইউএনও মনজুর হোসেন এবং তার তৎকালীন গাড়িচালক বুলবুল মোল্লাসহ ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত শেষে সোহানা নাসরিন জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি ১০ দিন আগে ওই প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে কলেজছাত্রী বলেন, ২০২১ সালে বাসাইলের ইউএনও মো. মনজুর হোসেনের সঙ্গে তার ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। বিয়ের কথা বলে ইউএনও সরকারি বাসভবনে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পারিবারিকভাবে কলেজছাত্রীর অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হলে তিনি বিয়ের জন্য ইউএনওকে বলেন। তখন ইউএনও বিয়ের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে চলে আসতে বলেন এবং টাঙ্গাইল শহরের পাওয়ার হাউজের কাছে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেই বাসায় তারা দুই মাস থাকেন।

লিখিত অভিযোগে কলেজছাত্রী আরও বলেছেন, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বেনাপোল হয়ে তাকে নিয়ে ইউএনও ভারতের কলকাতায় যান। পরে সেখান থেকে উড়োজাহাজে করে যান হায়দরাবাদে। সেখানে তারা দুজন চিকিৎসা নেন। পাসপোর্ট দেখে তিনি জানতে পারেন যে ইউএনও মনজুর হোসেন বিবাহিত। সেখানে থাকার সময় তার মোবাইল ফোন থেকে তাদের দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ও কথোপকথন মুছে ফেলেন ইউএনও। ভারতে ১২ দিন অবস্থানের পর ৫ অক্টোবর তারা দেশে ফিরে আসেন। তার পর থেকে ইউএনও তাকে এড়িয়ে চলতে থাকেন।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে ইউএনও মো. মনজুর হোসেনকে বাসাইল থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। পরে এ বছরের ৪ মার্চ কিশোরগঞ্জের ইউএনও হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। কলেজছাত্রীর অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর তাকে সেখান থেকে গত এপ্রিলে প্রত্যাহার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত