মধুমতীর ভাঙনঝুঁকিতে উপহারের ৩০০ ঘর

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ০২:৩৮ এএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদীর ভাঙনে মুজিববর্ষে গড়ে তোলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৩০০ ঘর হুমকির মুখে। গত তিন বছরে এই উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৬০০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে নদীতে। বর্তমানে সেখানকার এক হাজারের মতো পরিবার নতুন করে হুমকির মুখে রয়েছে। নদীতীর রক্ষায় পদক্ষেপ না নিলে তাদের ঘরবাড়ি দ্রুতই নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীতীর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

জানা গেছে, আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের ছাতিয়াগাতি, দিগনগর, খোলাবাড়িয়া, কাতলাসুর ও পগনবেগ গ্রামে মধুমতী নদীর ভাঙনের মাত্রা তীব্র আকার নিয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের বাজড়া, বাঁশতলা, দক্ষিণচর নারানদিয়া, পশ্চিমচর নারানদিয়া ও পাড়া গ্রামসহ পাশের পাচুরিয়া, টগরবন্দ ও বানা ইউনিয়নেও মধুমতী নদীর ভাঙন চলছে। বিলীন হচ্ছে বসতভিটাসহ একের পর এক স্থাপনা।

গোপালপুর ইউনিয়নের কাতলারসুর গ্রামে মুজিববর্ষে গড়ে তোলা হয়েছে স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৮৬ জন সুবিধাভোগীর কাছে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হয় ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর। মাত্র দুই বছর না যেতেই এসব ঘরের বাসিন্দারা এখন নদীভাঙনে ঘর হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রুপালি বেগম জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটু আশ্রয় পেয়েছিলেন। এখন এ আশ্রয় হারালে তাদের আবার পথেই থাকতে হবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব নবিরন বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘর হারাইলি আমরা হাবিডুবি খাবানি। আমাগে গাঙডা ইট্টু বাইন্ধ্যা দ্যান।’

ছাতিয়াগাতি গ্রামের প্রবাসফেরত শাহ মো. মুকুল হোসেন মিয়া জানান, পৈতৃক সূত্রে তাদের প্রায় ৩০ একরের মতো জমিজমা ছিল মধুমতীর তীরে। এখন শুধু ভিটেটুকুই আছে, বাদবাকি প্রায় সবই নদীতে বিলীন। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর মধুমতী নদীর ভাঙন চলছে। এখন ভিটেটুকু রয়েছে। তাও ভাঙনের মুখে পড়েছে। বাপ-দাদার কবর ও মসজিদটাও নদীতে তলিয়ে যাবে, যদি ভাঙনরোধ করা না যায়।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামটিতে একটি পুরনো মসজিদ ছিল, যা নদীতে বিলীন হওয়ার পর নতুন জায়গায় মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেটিও ঝুঁকির মুখে। এ ছাড়া একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীনের হুমকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, গোপালপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম ছিল খোলাবাড়িয়া। যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬০০। পুরো গ্রামটি এরই মধ্যে মধুমতী নদীতে চলে গেছে। এখন নতুন নতুন আরও গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদীভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা নিয়ে বহুবার জেলার বিভিন্ন সভায় বলা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসক একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনও করে গেছেন। কিন্তু ভাঙন রোধে সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

বর্তমান গতিতে ভাঙন চললে দ্রুতই আরও প্রায় হাজারখানেক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীনের আশঙ্কার কথাও জানান এই জনপ্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘দুই থেকে তিন বছর হলো আমরা বিষয়টি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ওই এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ অন্যান্য স্থাপনার যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য আবারও বিষয়টি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বের সঙ্গে জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত