যৌতুকের জন্য নির্যাতন কিশোরী বধূর আত্মহত্যা

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ০২:০২ এএম

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে এক কিশোরী গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মধ্য ইসলাম নগর মজিবর ঘাট ৭ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি থেকে আলিফা আক্তার (১৬) নামে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত আলিফার বাবা মো. নান্নু মিয়া অভিযোগ করে জানান, পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে আব্দুর রহিম নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেয়ের। রহিম রাজধানীর ধানম-ির রাপা প্লাজায় একটি দোকানে চাকরি করে। স্ত্রীকে নিয়ে মজিবর ঘাটের ৭ নম্বর গলির নিজেদের বাড়িতে বসবাস করছিল সে। আলিফার বাবা-মা থাকেন ব্যাটারিঘাট এলাকায়। বিয়ের সময় তার স্বামীর বাড়ির লোকজনের যৌতুকের কোনো দাবি ছিল না। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ি বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতে যৌতুকের জন্য কথা শোনাতেন আলিফাকে। আব্দুর রহিমের অন্য ভাইদের বিয়ের সময় কয়েক লাখ টাকা করে তাদের শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক দেওয়া হয়েছে বলে আলিফাকে জানানো হয়। বিভিন্নভাবে নির্যাতনও করা হতো তাকে। এসব কারণে দেড় মাস আগে রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিল আলিফা। পরে গত মঙ্গলবার আব্দুর রহিম তাকে বুঝিয়ে আবার তার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবার ঝগড়া হয়। তখন আলিফার মা সুবর্ণা ওই বাসায় গিয়ে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়ে আসেন। এরপর বিকেল থেকে কয়েকবার আলিফার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সে ধরেনি। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছোট বোন ওই বাসায় গিয়ে আলিফার শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। তখন সে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে আলিফাকে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের কারণে আলিফাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। আর এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই ফাহমিদা ইয়াসমিন সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আলিফা। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আলিফাদের বাড়ি বরিশালের মুলাদির নন্দির বাজার গ্রামে। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিল সে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত