কলেজে ঢুকে শিক্ষককে চড় মারলেন এমপি!

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ০২:০৮ এএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজে ঢুকে এক শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় এবং আরেক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলের ওই ঘটনায় আহত হয়ে এক শিক্ষক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ওইদিন রাতেই ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, এমপি আনার কলেজে ঢুকেই সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে ‘তুই শিবির করিস’ বলে চড়-থাপ্পড় মারেন। এর আগে কয়েকজন বহিরাগত দুর্নীতির মামলার কিছু নথি হাতিয়ে নিতে কলেজে ঢুকে সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ও সাজ্জাদ হোসেনকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ ঘটনার সঙ্গে কলেজের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক সুব্রত কুমার নন্দী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিদ ম-ল জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজের দুই কর্মচারীও ভুক্তভোগী দুই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এদিকে এমপির হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। এছাড়া শিক্ষকরাও আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

লাঞ্ছনার শিকার গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘হঠাৎ এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার এসে শিক্ষক রুমের সবাইকে বের করে দেন। এরপর আমাকে শিবির করিস বলে থাপ্পড় মারেন। পরপর পাঁচ-ছয়টি থাপ্পড় মারেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এমপি আমাকে মারধর করেন।’ এমপির থাপ্পড়ে কানে গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলেও জানান এ শিক্ষক।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জানান, কলেজ থেকে সরকারি খাতা চুরির ঘটনায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে একটি চুরির মামলা করা হয় আদালতে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। ওই মামলার সাক্ষী গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। এ কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ মামলার আসামিরা। তারাও একই কলেজে চাকরি করেন। এ কারণে বহিরাগতদের ডেকে নিয়ে খাতা চুরি মামলার আসামি রকিবুল ইসলাম মিল্টনসহ অন্যরা সাজ্জাদকে চড়-থাপ্পড় মারে।

অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কলেজের কাজে সহকারী অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেনকে সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর নন-এমপিও ৬১ নম্বর সিরিয়ালধারী জুনিয়র প্রভাষক সুব্রত কুমার নন্দী ও খাতা চুরির মামলার আসামি সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ম-ল চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একদল বহিরাগত এবং কলেজের স্টাফ সবুজ ও পিয়ন তাপসের সহায়তায় ত্রাস সৃষ্টিসহ সহকারী অধ্যাপক মোশাররফকে লাঞ্ছিত করে।’

এ প্রসঙ্গে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগের একটি ফাইল হাতিয়ে নিতে সুব্রত ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ম-ল আমাকে অপমান অপদস্থ, এমনকি মারধর করতে উদ্যত হন। কিন্তু এ ধরনের একটি সরকারি ডকুমেন্ট (নথি) ইউএনওর সম্মতি ছাড়া দিতে পারব না বলে তাদের সাফ জানিয়ে দিই। পরে সুবিধা করতে না পেরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।’

শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রহিম মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কলেজের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত