বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস আজ

পর্যটকের চাপে হুমকিতে লাউয়াছড়া

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ০৫:০৮ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের চাপে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। ১ হাজার ২৫০ হেক্টরের এ বনে রয়েছে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী। দেশের মধ্যে শুধু এখানেই রয়েছে আফ্রিকান টিকওক গাছ। আছে বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন চীনা বনরুইসহ অনেক বিপন্ন প্রাণী। তবে অব্যবস্থাপনা, বনের জমি দখল, অপরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র, বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়ক ও রেলপথের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল। প্রতি বছর বিভিন্ন দিবস, ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাজার হাজার পর্যটক এ উদ্যানে বেড়াতে আসে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের হইহুল্লোড়ে বন্যপ্রাণী ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ বনটির জীববৈচিত্র্য বড় ধরনের হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এরই মধ্যে আজ (২২ মে) বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস পালন করা হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং অ্যা শেয়ারড ফিউচার ফর অল লাইফ’।

১৯৯৩ সালের শেষ দিকে দিবসটি পালনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে এ দিবস পালন বন্ধ করে দিলে ২০০২ সালের ২২ মে পালনের জন্য দিবসটি পুনঃনির্ধারণ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। মূলত ১৯৯২ সালের ২২ মে কেনিয়ার নাইরোবিতে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনে দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মে মাসেই ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ১৫-২০ হাজার পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ করেছে। অনেক পর্যটক হোটেল-মোটেল না পেয়ে ভোর থেকেই প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ বছর অধিক পর্যটক এসেছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হলেও বনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার ও বন্ধুবান্ধর নিয়ে সারা দেশ থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় করছে। উদ্যানের ভেতর ও বাইরে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে অনেকেই। যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, চিপস, বিস্কুট, চকলেটের খালি প্যাকেট পড়ে আছে। বনের ভেতরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বিভিন্ন প্রাণীদের ইশারা করছে অনেক পর্যটক। বনের ভেতরে রেললাইনের ওপর বসে অনেকে গান গাইছে। অতিরিক্ত মানুষের ভয়ে উল্লুক এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছোটাছুটি করছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বনের জীববৈচিত্র্যকে কঠিন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে পর্যটক। যে পর্যটক বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে, সেই পর্যটকের পক্ষে আমরা নেই। পরিবেশের ক্ষতি না করে পর্যটকদের প্রবেশ করাতে হবে, নয়তো একদিন এই উদ্যান থেকে জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাউয়াছড়ায় বন বিভাগের দিকনির্দেশনা মানার জন্য ও যাতে বনের ক্ষতি না হয় সেজন্য আমরা সব সময় পর্যটকের ওপর নজর রাখছি।’

অতিরিক্ত পর্যটক আসার বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন বেশি হওয়ার কারণে বনের ওপর প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত পর্যটক প্রবেশের কারণে বন্যপ্রাণী লোকালয় থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে আমাদের ধারণক্ষমতার বাইরে চলে আসে পর্যটক।’

এ জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। এছাড়া বনের মধ্যে সারাক্ষণই সাইরেনের মতো ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত