দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর অবশেষে রুশ বাহিনীর পূর্ণ দখলে এসেছে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মারিওপোল। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিওপোলে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রধান ঘাঁটি আজভস্তাল ইস্পাত কারখানায় রয়ে যাওয়া ৫৩১ জন সেনা সদস্যের সবাই শুক্রবার আত্মসমর্পণ করেছে। মস্কোর দাবি, গত ১৭ মে থেকে এ পর্যন্ত চার দিনে আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা থেকে ২৪৩৯ জন ইউক্রেনীয় সেনা আত্মসমর্পণ করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সম্পর্কে বলা হয়, ‘কারখানার বেসমেন্ট এলাকা, যেখানে এতদিন ইউক্রেনীয় সেনারা আত্মগোপন করেছিল; বর্তমানে রুশ বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’ শুক্রবার ইউক্রেনের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের (আজভস্তাল) সেনা সদস্যদের ওই এলাকা থেকে বের হওয়া এবং নিজেদের জীবন রক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। তারা সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছে।’
আজভ সাগরের তীরবর্তী মারিওপোল শহরটি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল রুশ বাহিনীর কাছে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই এই শহরটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর ২ মার্চ মারিওপোলে প্রবেশ করে রুশ সেনারা। প্রান্তিক বিভিন্ন এলাকা দখলের পর ৪ মার্চ শহরটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে এগোতে শুরু করে রুশ বাহিনী।
শহরের চারদিক রুশ বাহিনী ঘিরে ফেলায় বিপদে পড়েন মারিওপোলের সাধারণ বেসামরিক মানুষজন। শহর থেকে বের হওয়ার প্রায় সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সময় মানবিক করিডোরের মাধ্যমে অবশ্য তাদের বেশিরভাগকেই মারিওপোল থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তারপরও সেখানে আটকা পড়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ।
আজভস্তালের আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনারা দেশটির জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছেন। ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আত্মসমর্পণ করা এই সেনাদের অন্যান্য ইউক্রেনীয় সেনার মতো বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবে মস্কো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও বলেছেন, আত্মসমর্পণ করা এই বন্দিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করা হবে। তবে এখনো এ ব্যাপারে কিছু অনিশ্চয়তা আছে। কারণ, গত মঙ্গলবার আজভস্তালে অবস্থান নেওয়া ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘নাৎসি অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করতে আইন পাস হয়েছে রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমায়। মারিওপোলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ইউনিট দেশটির অন্যান্য সেনা ইউনিট থেকে আলাদা। জাতীয় সেনা কমান্ডে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ইউনিটটি কট্টর ডানপন্থি একটি মিলিশিয়া বাহিনী ছিল। ‘আজভ ব্যাটালিয়ন’ নামের এই ব্যাটালিয়নটি গঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালে।
