তামিম-মুশফিকের টানা সেঞ্চুরির হাতছানি

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ১১:৩৩ পিএম

ম্যাচের আগের দিন খুব একটা অনুশীলন করেন না তামিম ইকবাল। চট্টগাম টেস্টের আগের দিনও করেননি। কাল ব্যতিক্রম হলো। খুব মনোযোগের সঙ্গে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন অ্যাকাডেমি মাঠের পূর্ব প্রান্তের প্রথম নেটে। অনুশীলনের কারণও আছে। ১৩৩ রানের সাহসী ইনিংসে যেভাবে আউট হলেন, নিকট অতীতে এই আউটের ধরনটাই ভাবাচ্ছে তাকে। এই ভুল না শোধরালে পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরির তৃতীয় কীর্তি মিস হয়ে যেতে পারে। পাশের নেটে মুশফিক রহিমও ‘সিরিয়াস’ তার ব্যাটিং নিয়ে। দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান চট্টগ্রামে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া মিস্টার ডিপেন্ডেবলের সামনে একই সিরিজের পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরির হাতছানি।

যে কোনো ম্যাচ জিততে স্কোরবোর্ড হৃষ্টপুষ্ট রান চাই যে কোনো দলের। চট্টগ্রামে ম্যাচ বাঁচিয়ে জয়ের যে আবহটা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, তা প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রানের জবাবে ৪৬৫ রানের জন্য। আর ইনিংসটা গড়ে উঠেছিল তামিম-মুশফিকের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে। সমস্যা হলো এই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির একমাত্র কীর্তি মুমিনুল হকের। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের হয়ে ওই অনন্য রেকর্ড গড়ার ৫ বছর আগে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম ও মিরপুরে পর পর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান অধিনায়ক। তারও তিন বছর আগে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির প্রথম কীর্তিটি গড়েন তামিম ইকবাল। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ বলে ১০৩ রান করে হয়ে যান ক্রিকেট মক্কার অনার্স বোর্ডে নাম তোলা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। তার আগেই অবশ্য ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নাম তোলেন পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তোলা যে কোনো ক্রিকেটারের স্বপ্ন। তামিম সেই স্বপ্ন পূরণ করে নিজেদের ড্রেসিংরুমের দিকে ছুটে এসে ইশারায় দেখাচ্ছিলেন তার নাম উঠছে। ওই টেস্টের পর ওল্ড ট্রাফোর্ডেও তামিম দ্যুতি ছড়ান। এবার ১১৪ বলে ১০৮ রানের ইনিংস। এরপর ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনা ও চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি করেন একই স্কোর- ১০৯। সেবার ৬ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করেছিলেন বাংলাদেশের সেরা ওপেনার। এর মধ্যে ক্যারিয়ারের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটিও দেখেছেন। পরের ৫১ ইনিংসে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে তামিমের। করোনার সময়ে ছন্দ ফিরে পেয়েছিলেন আবার। উইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা সিরিজ মিলিয়ে টানা চার ইনিংসে চারটি ফিফটি পেলেও সেঞ্চুরি পাচ্ছিলেন না। সেই আক্ষেপটা মিটেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে।

এই ধারাবাহিকতা যে রাখবেন সেখানেই ভয় আউট নিয়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সিরিজ থেকেই ভুগছেন আউট নিয়ে। ফজল হক ফারুকীর কাছেই তিন ওয়ানডের তিনটিতে ফিরেছেন লাইন থেকে ইনসুইং হওয়া বলে। একই বলে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্টে হলেন এলবিডব্লিউ আর এবার শ্রীলঙ্কায় বোল্ড। অফস্ট্যাম্পে পড়ে ইনসুইং হওয়া বল ঠিক ধরতে পারছেন না তামিম। এ ব্যাপারে চিন্তিত ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সও, ‘আসলে ওই বলগুলো খুব ভালো ডেলিভারি ছিল। অনেক সময় ব্যাটসম্যানের কিছুই করার থাকে না। তবে হ্যাঁ একই বলে বারবার আউট হওয়া একটা চিন্তার কারণ। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি।’ 

বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের টানা সেঞ্চুরি ছিল ২০১৭ সালে। নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়েলিংটন টেস্টে ২৬০ বলে ১৫৯ করেছিলেন। সাকিবের ২১৭ রানের ইনিংস মিলিয়ে ইতিহাস গড়া ৩৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক। বাংলাদেশের পরের টেস্টে ভারতের হায়দরাবাদে ২৬২ বলে ১২৭ রান করেছিলেন মুশফিক। তার সামনে এবার একই সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির হাতছানি। মুশফিকের পয়া গ্রাউন্ড বলা যায় শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। এখানেই আছে তিন ডাবল সেঞ্চুরির দুটি। দুটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকের ৬ ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর ৬১। রিভার্স সুইপ বিসর্জন দিয়ে চট্টগ্রামে ২৭০ বলের ইনিংস খেলা মুশফিকের জন্য হোম অব ক্রিকেটে সেঞ্চুরির প্রত্যাশা করছে সবাই।

পেসারের ইনসুইংয়ে পরাস্ত হওয়ায় ১৯ রানের জন্য দেশের হয়ে প্রথম ৫ হাজার রানের কীর্তি গড়া হয়নি তামিমের। মুশফিক সেই সম্মানটা ছিনিয়ে নিয়েছেন। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রান হয়ে যাচ্ছে মিরপুরে তামিমের। তবে টানা টেস্টে সেঞ্চুরির সুযোগটা যেন দুই ব্যাটারই কাজে লাগাতে পারেন সেটাই চাওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত