বাগেরহাটের একটি টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন ইউএনডিপির এক কর্মকর্তা। গতকাল রবিবার সকালের ওই দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আরও অন্তত ৪ জন আহত হন। এদিন রাজবাড়ীতে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক স্কুলশিক্ষকসহ আরও দুজন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, গত সকাল ৯টায় বাগেরহাট-চিতলমারী সড়কের মুণিগঞ্জ সেতুর টোল ঘরের সামনে একটি ট্রাক দুটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শেখ মশিয়ার রহমান (৪২) নামে এক ব্যক্তি। নিহত মশিয়ার রহমান বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের গোটাপাড়া গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ইউএনডিপির বাগেরহাটের একটি প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছিল তার কর্মস্থল।
ওই দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক আজাদুল হক জানান, মুণিগঞ্জ সেতুর টোল ঘরের কাছে পৌঁছে রাস্তায় বাঁশের ব্যারিকেড দেখে তিনি ওইখানে দাঁড়িয়ে যান। নিহত মশিয়ারও বাঁশের ব্যারিকেডের কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। রাস্তায় ব্যারিকেডের কারণ জানতে চাইলে টোল ঘরের লোকজন জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান একটি ট্রাককে আটকাতে বলেছেন। তাই ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। ওই আলাপচারিতার কিছুক্ষণ পরেই ট্রাকটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে পালিয়ে যায়। এসময় মশিয়ার রাস্তার ওপর ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শমসের আলী বলেন, সকাল ৮টা নাগাদ আমার পরিষদের উদ্যোক্তা মাসুদুর রহমান বাগেরহাট-চিতলমারী সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় দাঁড়ানো একটি ট্রাকে সন্দেহজনক কিছু তোলা হচ্ছে বলে জানান। তিনি নিজেও ট্রাকটিকে দাঁড়াতে বলেছিলেন। তবে চালক কোনো কথা না শুনে পালানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি জেনে আমি আমি মুণিগঞ্জ টোলে ফোন করে ওই ট্রাকটিকে আটকাতে বলি। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করতে পুলিশের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাগেরহাট সদর মডেল ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা মুণিগঞ্জ টোলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ট্রাকটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলায় বাসচাপায় মো. আবদুল হক নামে এক শিক্ষক মারা গেছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল হক উপজেলার বার্থা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের আফড়া গ্রামে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আবদুল হক রাজবাড়ী থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে পথে চরবাগমারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় স্থানে বিপরীত থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। বিক্ষুব্ধ জনতা বাস আটক করে। তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এদিকে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুর গ্রামে রিকশা থেকে পড়ে পরিমল ঘোষ (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ালী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। আলাদীপুরে রিকশা থেকে পড়ে গেলে তার কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।
