অর্থনীতি সমিতির সংবাদ সম্মেলন

২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০২:০১ এএম

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ২০ লাখ ৫০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। গতকাল রবিবার ঢাকায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ড. আবুল বারকাত এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। কভিড মহামারী ও রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চিত-অভিঘাত বিবেচনায় রেখে বড় আকারের এ বাজেট তারা প্রস্তাব করছেন বলে জানান তিনি। খবর বাসস

এদিকে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টুয়েন্টিফোর ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, পেশাদার অর্থনীতিবিদদের সংগঠন অর্থনীতি সমিতি মনে করে, স্বাধীনতার পর গত ৪৬ বছরে দেশে কালো টাকার পরিমাণ প্রায় ৮৮ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। এ সময় দেশ থেকে কমপক্ষে ৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ টাকা উদ্ধার করে তা দেশের জাতীয় বাজেটে খরচ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

অর্থনীতি সমিতির এবারের প্রস্তাবিত বাজেট চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ৩ দশমিক ৪০ গুণ বেশি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার বা মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটকে জনগণতান্ত্রিক বাজেট অভিহিত করে আবুল বারকাত বলেন, এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলোÑ আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টেকসই মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রূপান্তর করা। একই সঙ্গে বিদ্যমান অসমতা ও দারিদ্র্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। যা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে একটি ‘শোভন সমাজব্যবস্থা’।

আবুল বারকাতের বিকল্প বাজেটে মোট ৩৮টি সুপারিশ রয়েছে। প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে আসবে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের ৯১ দশমিক ২ শতাংশের জোগান দেবে সরকারের রাজস্ব আয়। বাকি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা হবে বাজেট ঘাটতি।

বাজেটে আয় সম্পর্কে ড. বারকাত বলেন, ‘বাজেট অর্থনৈতিক হলেও এর আয়ের সমাধান অনেকটাই রাজনৈতিক। এ বিশাল বাজেটের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে এমন উৎসে হাত দিতে হবে যেখানে অতীতে হাত দেওয়া হয়নি। এ উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পদ কর। দেশের সম্পদ কর আইন আছে। অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসাতে হবে। বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর আদায় করা যায়। কালো টাকা ও পাচার করা টাকা থেকে উদ্ধারকৃত অর্থ বাজেটে ব্যয় করতে হবে।’

কালো টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত ৪৬ বছরে বাংলাদেশের পুঞ্জীভূত কালো টাকা থেকে আমরা দুই শতাংশ উদ্ধারের প্রস্তাব করছি। এতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা উদ্ধার হবে।’ কালো টাকার বিষয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের কথাও বলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত