বাংলাদেশের কাছে তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০২:৪১ এএম

বাংলাদেশের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। বিশেষ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ লাগানোর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশকে। গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে এখন তেল কেনার দরকার আছে কি না, তা তারা পর্যালোচনা করে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষ থেকে তেল বিক্রির প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ক্রুড অয়েলের কথা বলছে তারা। আমরা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছি। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে।’

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রস্তাবে ঠিক কী আছে, কত দরে কী পরিমাণ তেল রাশিয়া দিতে পারবে, মূল্য পরিশোধইবা কীভাবে হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি প্রতিমন্ত্রী।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক অবরোধ আরোপ শুরু করে রাশিয়ার ওপর। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম কমানোর চিন্তা আছে কি না জানতে চাইলে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা জ্বালানির দামটা স্থিতিশীল রাখতে চাই। বাড়াতেও চাই না, কমাতেও চাই না। দাম যতটুকু কমেছে, তাতে করে এখনই সমন্বয় করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।’

রাশিয়ার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দাম পরিশোধে জটিলতা আছে। সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারে দাম পরিশোধ সম্ভব নয়। আর রাশিয়াও অনেক দেশের ক্ষেত্রে রুবলে দাম পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি বছর ৫০ লাখ টন ডিজেল, ১৩ লাখ অপরিশোধিত তেল, ২ লাখ টন ফার্নেস অয়েল এবং ১ লাখ ২০ হাজার টন অকটেন আমদানি করে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ওপর থেকে জ্বালানি খরচের চাপ কমাতে তরল জ¦ালানির পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন চালু করা উচিত। এখন বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলারগুলো চলছে। এগুলো জনগণকে খরচের ব্যাপারে স্বস্তি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে। রেল বিভাগ চাইলে বৈদ্যুতিক ট্রেনও চালু করতে পারে।’

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর আমাদের বেশ কয়েকটি গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বেশ কয়েকটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে পারব। এতে খরচ সাশ্রয় হবে।’

চলমান ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে নসরুল হামিদ আরও বলেন, ‘সেই সমস্যা এখন কেটে গেছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ছাড় দিতে বাধ্য। আমরা যে ব্যাংক থেকেই এলসি খুলতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংকের ডলারের জোগান দিতে বাধ্য। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’ তবে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পরিবহনে জাহাজ সংকট জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত