চাকরি জাতীয়করণ হওয়ার পর ৪৮ হাজার ৭২০ প্রাথমিক শিক্ষকের ভোগকৃত টাইম স্কেলের সুবিধা ফেরত সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। ফলে উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এ বিষয়ে এখন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে বলে জানান রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবীরা।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রাথমিক শিক্ষক সমাবেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর রাষ্ট্রপতির আদেশে এ সংক্রান্ত পরিপত্র ও গেজেট প্রকাশিত হয়। ফলে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকরা সরকারের এ আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ১২ আগস্ট ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরতের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে। এমন সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ওই বছরের ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে রুল দেয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এক আদেশে হাইকোর্টের আদেশটির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর চেম্বার আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রিট আবেদনকারী পক্ষ। ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ টাইম স্কেল নিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে সময় বেঁধে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রুল খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট। আদালত এ বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে বাদীপক্ষকে পরামর্শ দেয়।
আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ব্যারিস্টার মোকছেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতে বলেছি, শিক্ষকদের বেতন কম। এমনিতেই তারা আর্থিক কষ্টে থাকেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে গেলে অনেক সময় সাপেক্ষ হবে। আদালত আবেদনটি খারিজ করেছেন। এখন আমাদেরকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে হচ্ছে।’
