প্রথমবারের মতো প্রবাসী আয়কে জনশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশ ফেরতদের হিসাবও উল্লেখ থাকছে জনশুমারিতে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আগামী ১৫ জুন থেকে সপ্তাহব্যাপী জনশুমারি হবে। প্রতি ১০ বছর অন্তর জনশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারী ও ‘ডিজিটাল শুমারি’ করার জটিলতায় এই শুমারি ও গৃহগণনা শুরু হচ্ছে। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রশিক্ষণ উদ্বোধন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতির্থির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের উন্নয়ন বেড়েছে। দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। ডাটা, পরিসংখ্যান ঠিক না থাকলে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা কঠিন। তাই জনশুমারিতে কেউ যাতে ভুল তথ্য দিয়ে তা বিঘিœত করতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কেউ যেন জনশুমারির কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একজন মানুষও যেন এবারের জনশুমারি গণনা কার্যক্রম থেকে বাদ না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সে তথ্য সংগ্রহ করতে প্রথম সার্ভে করা হয়েছিল। তখন রেমিট্যান্স আসে ১৪ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে এর প্রবাহ বেড়েছে। প্রণোদনা দেওয়ার ফলে ১৮ বিলিয়ন থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় রেমিট্যান্স। এ বছর এখন পর্যন্ত ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এক ভিডিও বার্তায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জনশুমারি প্রয়োজন। এটি কভিড-১৯-এর কারণে দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতিসহজে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে। মাঠ ও উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মনিটনিং করতে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা গণনা সমন্বয়কারীরা এই চার দিনে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। আপনারা নিজেদের অধীনদের মধ্যে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দেবেন। এটি জাতিসংঘের টেইসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক হবে।’ এম এ মান্নান বলেন, দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন কেউ খালি গায়ে, না খেয়ে ভাঙা ঘরে থাকে না।
