সারা দেশে টিসিবির পাওনা প্রায় ৭০ কোটি টাকা

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ১১:৩১ পিএম

রোজার ঈদের সময় পণ্য বিক্রির প্রায় ৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পণ্য বিক্রি শুরু করার আগেই বকেয়া আদায় চায় সংস্থাটি। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে টিসিবি। 

টিসিবি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করে। রোজার সময় যুক্ত হয় খেজুর ও ছোলা। আগে সারা দেশে টিসিবির নিজস্ব কার্যালয় থেকে ডিলারদের পণ্য দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে। তাই পণ্য নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে হয় ডিলারদের। জেলা প্রশাসকরা পরে সেই টাকা টিসিবির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

ঈদুল আজহার আগে ১ কোটি ৬ লাখ পরিবারের কাছে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি শুরু করবে টিসিবি। এ জন্য দেশের ২১টি জেলায় পাওনা প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব টাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে টিসিবির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। বেশ কয়েকটি জেলা থেকে পণ্য বিক্রির পুরো টাকা পাঠানো হয়নি। এখন বকেয়া টাকা পাঠাতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

টিসিবি সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেলায় পাওনা রয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬ টাকা। জেলায় মোট বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার ২৯৮ টাকার পণ্য। নীলফামারীতে পাওনা রয়েছে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৫ টাকা।  বিক্রির পরিমাণ ১৪ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার ৭৪২ টাকা। ঠাকুরগাঁও জেলায় পাওনা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৬ টাকা। পণ্য বিক্রি হয়েছে ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৬৮ টাকার পণ্য। মানিকগঞ্জ জেলায় পাওনার পরিমাণ ৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮ টাকা। পণ্য বিক্রি হয়েছে ৭ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৩ টাকা। নারায়ণগঞ্জে টিসিবির পাওনা ১০ কোটি ৫১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৪ টাকা। বিক্রি হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার ৭০১ টাকা।

ঢাকা জেলায় টিসিবির পাওনা ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বিক্রি ১২ কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯১ টাকা। সুনামগঞ্জে পাওনা ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৬১ টাকা। বিক্রি ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৮ টাকা। টাঙ্গাইলে পাওনা ২ কোটি ৬১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯ টাকা। বিক্রি ১৫ কোটি ৫৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৩ টাকা। শেরপুরে পাওনা ৫ কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৯২ টাকা। বিক্রি ১০ কোটি ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ৪১৬ টাকা। ফরিদপুরে ৪ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪২ টাকা। বিক্রি ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৮ টাকা। কক্সবাজারে পাওনা টিসিবির রয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬৬ হাজার ২০৯ টাকা। বিক্রি ১০ কোটি ৯০ লাখ ১১ হাজার ২০৯ টাকা। চট্টগ্রাম জেলায় পাওনার পরিমাণ ১৩ কোটি ৯০ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা। বিক্রি ৫১ কোটি ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০ টাকা। এর বাইরে গাজীপুর, যশোর, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বান্দরবানে পাওনা রয়েছে টিসিবির। তবে পণ্য বিক্রির তুলনায় পাওনার পরিমাণ অনেক কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত