রাজনৈতিক মাঠে কোণঠাসা অবস্থা থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। কিন্তু রাজপথের এই বড় দলটিকে ছাড় দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি এখন ঘরের ভেতর ঢুকে পড়া দল। গত এক যুগ ধরে যেভাবে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের এখনো সেভাবেই থাকতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ আর পাবে না তারা।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা কেন্দ্রীয় ওই নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিহত করা হবে। সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়ার তথা মাঠের রাজনীতি করার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে অবস্থানে এখন নেই কেন আওয়ামী লীগ এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের ওই নেতারা বলেন, বিএনপিকে বসার সুযোগ দেওয়া হলে শুতে চায়। গত কয়েক দিন তাদের দলীয় কর্মসূচিতে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপিকে ‘ঘুম পাড়ানো মাসি-পিসি’ গান শুনানো হবে। হাস্যরসের ভঙিতে তিনি আরও বলেন, না ঘুমালে ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হবে। যতদিন ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা বিএনপি করবে না ততদিন কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এটাই সোজাসাপ্টা কথা।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি একটি অসুস্থ রাজনৈতিক দল। তাদের দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট নেই। বিএনপির কাছে ক্ষমতা মানে লুটপাট করা আর রাজনীতি মানে সংঘাত-সহিংসতা।’
ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপিকে মাঠে জায়গা দেওয়া হলে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠবে। গত কয়েক দিনের কর্মসূচিতে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। তারা বোঝে, আন্দোলন মানে জ্বালাও-পোড়াও। জনগণের সম্পদ নষ্ট করা। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনা করছে, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। বিএনপির রাজনীতি সন্ত্রাস-সংঘাত সৃষ্টি করার রাজনীতি। এই রাজনীতি জনগণ আর চায় না।’
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, জেলা-উপজেলায় বিএনপিকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, বিএনপিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা মাথায় উঠে বসতে চায়। নানা উসকানি দেয়। তাছাড়া এই বছরটি সরকারের অর্জনের বছর। বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন হবে। বিশেষত আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিএনপি সেই দিনটি ধরে ষড়যন্ত্রের-চক্রান্তের ছক এঁকেছে। বিএনপিকে মাঠে প্রতিরোধ করা না গেলে ওই দিনটি ঘিরে তারা কোনো না কোনো নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে। বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন জেলায় দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে কিছু কিছু জেলায় কর্মসূচি পালন করেছে। আবার সংঘর্ষের চেষ্টাও করেছে। প্রথমে মেনে নিয়েছি। শিগগিরই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, খুব শিগগিরই বিএনপিকে ঘরে তুলে দেওয়া হবে। তিনি জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুস্থ রাজনীতির চর্চা বিএনপি করে না। ফলে ওই দলটিকে বিশ্বাস করাও যায় না। তারা সন্ত্রাসের রাজনীতি বোঝে, কিন্তু দেশের মানুষ সন্ত্রাসের রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, বিএনপি গণআন্দোলনের নামে দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে এবং সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরবেন না দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যে অশুভ পরিস্থিতির ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।
গতকাল শনিবার নিজের বাসভবনে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনে এত খুশি যে গত ১৩ বছরে বিএনপি বারবার ডাক দিলেও আন্দোলন করতে পারেনি। জনগণও তাতে সাড়া দেয়নি। ১৩ বছর যখন জনগণ সাড়া দেয়নি আগামী দিনেও সাড়া দিবে বলে বিশ্বাস হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির গণআন্দোলনের আশা তাই অচিরেই নিরাশায় পরিণত হবে।’
