প্রথম হিন্দিভাষী গীতাঞ্জলির বুকার জয়

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ১১:০৮ পিএম

দেশভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘রেত সমাধি’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ‘টুম্ব অব স্যান্ড’-এর জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেলেন ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী। হিন্দি ভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ এই সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। লিখেছেন নাসরিন শওকত

ভারতীয় হিন্দি ভাষার লেখক গীতাঞ্জলি শ্রীর লেখা উপন্যাস ‘রেত সমাধি’। এর ইংরেজি অনুবাদ টুম্ব অব স্যান্ড। মার্কিন চিত্রকর ও লেখক ডেইসি রকওয়েল উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। গত ২৬ মে লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২২ ঘোষণা করা হয়। এই প্রথম কোনো হিন্দি ভাষার সাহিত্যিক এই পুরস্কার পেলেন। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের মূল্যমান ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৪৯)। পুরস্কারের অর্থ লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী ও অনুবাদক ডেইজি রকওয়েল উভয়ে সমানভাবে পাবেন।

টুম্ব অব স্যান্ড

হিন্দিতে লেখা ‘রেত সমাধি’ ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। পরে এর ইংরেজি অনুবাদ ‘টুম্ব অব স্যান্ড’ যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়। ৭২৫ পৃষ্ঠার টুম্ব অব স্যান্ড দেশভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা। যেখানে সীমান্তের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে ধর্ম, দেশ বা সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত গীতাঞ্জলি শ্রীর রেত সমাধি। তিনি এ উপন্যাসের মধ্য দিয়েই মানসিক বৈকল্য, মাতৃত্ব ও নারীবাদের আখ্যান ফুটিয়ে তুলেছেন। উত্তর ভারতের ৮০ বছর বয়সী এক নারীর আত্মজাগরণের গল্প বলা হয়েছে টুম্ব অব স্যান্ডে। যেখানে দেখা যায়, স্বামীহারা ওই বৃদ্ধার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে দেশভাগ। জীবনের রোমাঞ্চকর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যিনি অপ্রত্যাশিত এক নতুন ও প্রথাবিরোধী জীবনের সন্ধান পান। স্বামীর মৃত্যু তাকে বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। একসময় দেশ ছেড়ে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কূটনৈতিক বাধা পেরিয়ে পাকিস্তান পৌঁছেও যান। শুরু হয় এই বৃদ্ধার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়- পরবাস। যেখানে তিনি সমাজের প্রচলিত প্রথা ভেঙে নতুন জীবন উপভোগ করেন। কিশোরী বয়সের দেশভাগের বিভীষিকা কখনোই পিছু ছাড়েনি তার। সেই সময়কার সব স্মৃতি কীভাবে তাকে তাড়া করেছে তা এই উপন্যাসে পাওয়া যাবে। এটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত গীতাঞ্জলি শ্রীর প্রথম বই।

উপন্যাসটির ভূমিকায় গীতাঞ্জলি লেখেন, যখন আপনি একজন নারী ও একটি সীমান্ত পাবেন, তখন একটি গল্প একাই লেখা হয়ে উঠবে। নারী নিজেই তার জন্য যথেষ্ট। নারী নিজেই একটি গল্প। উত্তেজনাপূর্ণ এ গল্প কখনো ফিসফিস করে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। আবার কখনো বা ঘাসের ডগার সঙ্গে বেঁকে বেঁকে যায়।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেন, ‘এই উপন্যাসটি এমন সব মানুষের গল্প বলে, যা তাদের সাংস্কৃতিক পটভূমির ভিন্নতা সত্ত্বেও সর্বজনীন। অনেকগুলো গল্প এই উপন্যাসে একসঙ্গে উঠে এসেছে... তবে এটি একজন বৃদ্ধা নারীরও গল্প। যিনি প্রায় মৃত্যু থেকে উঠে এসে নতুন জীবন গড়েন। ভারতে টুম্ব অব স্যান্ড উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছে। দৈনিক পত্রিকা হিন্দু বলেছে, ‘এই উপন্যাসে আশ্চর্য শক্তির এক গল্প বলা হয়েছে, যা শেষ হয়নি কখনোই। যেখানে মানব ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্প, চিন্তা, রাজনীতির অংশ গল্প হয়ে নিজেই বলে চলেছে। কখনো কখনো শ্রীর শব্দের কারুকাজকে খেলা বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত গীতাঞ্জলিকে তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে দেখা যায়।’

গীতাঞ্জলি শ্রী

গীতাঞ্জলি শ্রী একজন ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার। তিনি ১৯৫৭ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের মেইনপুরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম অনিরুদ্ধ পাণ্ডে ও মা শ্রী কুমারী পাণ্ডে। পারিবারিকভাবে তার নাম রাখা হয়েছিল গীতাঞ্জলি পাণ্ডে। পরে তিনি পারিবারিক পাণ্ডে পদবি বাদ দিয়ে মায়ের নামের প্রথমাংশ শ্রী গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি গীতাঞ্জলি শ্রী নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার বাবার সরকারি চাকরির সূত্রে উত্তর প্রদেশের বেশ কটি শহরে বেড়ে উঠেছেন তিনি। সেখানকার হিন্দি ভাষাভাষী পরিবেশে ছোটবেলা কাটে গীতাঞ্জলির। এ কারণেই ইংরেজি ভাষার শিশুতোষ বইয়ের সঙ্গে সখ্যের তেমন সুযোগ ঘটেনি। এ অপূর্ণতাই মূলত গীতাঞ্জলিকে হিন্দি ভাষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। তার বাবাও একজন লেখক ছিলেন।

গীতাঞ্জলি উত্তর প্রদেশের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। এলাহাবাদে থাকার সময় প্রখ্যাত হিন্দি ও উর্দু লেখক সুমিত্রা নন্দন পান্থ, ফিরাক গোরাখপুরি ও মহাদেবী ভার্মার বইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শিশু বয়স থেকেই গীতাঞ্জলি মনোযোগী পাঠক ছিলেন। তারকা লেখক মুনশি প্রেমচাঁদের নাতনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

এরপর উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য গীতাঞ্জলি দিল্লিতে আসেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক হিন্দি শিক্ষা না থাকায় ইতিহাস তার বিষয় হয়ে ওঠে। গীতাঞ্জলি দিল্লির লেডি শ্রী রাম কলেজ ফর উইমেন (এলএসআর) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর জওয়াহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে আধুনিক ভারতের ইতিহাসে গ্র্যাজুয়েশন করেন। গুজরাট ভদোদরার দ্য মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ এবং বিশ্ববিদ্যালয় এমএস থেকে ‘বিটিউইনটু ওয়ার্ল্ডস : এন ইন্টেলেকচুয়াল বায়োগ্রাফি অব প্রেমচাঁদ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

হিন্দি সাহিত্যে তার প্রথম পদচারণা শুরু হয় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকালে। সে সেময় গীতাঞ্জলি মুনশি প্রেমচাঁদের ওপর করা তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভটি সাহিত্যকর্মে রূপ দেন।

লেখক হয়ে ওঠা

১৯৮০ সালে হিন্দি প্রকাশনা সংস্থা রাজকমলে কাজ করার মধ্য দিয়ে তার পেশাজীবন শুরু হয়। তিনি কয়েকটি ছোট গল্প ও পাঁচটি উপন্যাস লিখেছেন। ১৯৮৭ সালে তার লেখা প্রথম গল্প ‘বেলপাতা’ প্রখ্যাত হিন্দি সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘হ্যান্স’-এ প্রকাশ হয়। এর মধ্য দিয়েই গীতাঞ্জলির ছোট গল্পকার হিসেবে যাত্রা শুরু। ‘কুয়ো পাও কুনে’র চীনা নাটক ‘লাও জিউ : দ্য নাইনথ বর্ন’-এর হিন্দি অনুবাদ করেন গীতাঞ্জলি। এই নাটক জাপানের রাজধানী টোকিওর নিউ ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়। সেখানে কুয়ো পাও কুনের তিনটি পৃথক নাটক জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মঞ্চশিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চায়িত হয়। ১৯৯১ সালে গীতাঞ্জলি শ্রীর একগুচ্ছ ছোটগল্প ‘অনুগুঞ্জ’ প্রকাশ হয়।

প্রথম উপন্যাস ‘মা’ লিখে গীতাঞ্জলি সবার নজরে আসেন। ২০০১ সালে এ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন নীতা কুমার। এটি সাহিত্য অ্যাকাডেমি ট্রান্সলেশন পুরস্কার পায়। মা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিয়ান, উর্দু, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও কোরিয়ান ভাষা রয়েছে। একই বছর গীতাঞ্জলি শ্রী ‘তিরোথী’ নামে আরও একটি উপন্যাস লেখেন।

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙার পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘হামারা শহর উস বারাস’।

তৃতীয় উপন্যাস কালি ফর ইউমেন প্রকাশের পর তার পাঠকরা নড়েচড়ে বসেন। এ উপন্যাসে উত্তর ভারতের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের তিন প্রজন্মের নারীর জীবনবোধ ও সচেতনতা এবং তাদের চারপাশ ঘিরে থাকা পুরুষদের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি জানান, তিনি কখনোই সৃজনশীল লেখার প্রশিক্ষণ নেননি। কাজটা করতে করতেই শিখেছেন।

২০০৬ সালে গীতাঞ্জলি তার চতুর্থ উপন্যাস ‘খালি জাগা’ প্রকাশ করেন। এ উপন্যাসে সমকালীন বিশ্বের সহিংসতা, ক্ষতি এবং নিজের পরিচয় অন্বেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খালি জাগা প্রথমবারের মতো তিনটি ভাষায় অনূদিত হয়। ইংরেজি ভাষায় অনূদিত ‘দ্য এম্পটি স্পেস’ উপন্যাসটি অনুবাদ করেন নিবেদিতা মেনন, ফ্রেঞ্চে ‘ইউন প্লেস ভিড’ অনুবাদ করেন নিকোলা পৎজ্জা এবং জার্মানিতে ‘ইম লেরন রাউন’ যৌথভাবে অনুবাদ করেন গেওর্গ লেকনার ও নিবেদিতা মেনন।

২০১৮ সালে গীতাঞ্জলি হিন্দি ভাষায় তার পঞ্চম উপন্যাস ‘রেত সমাধি’ লেখেন। যেখানে তিনি সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত ধর্ম, দেশ ও লিঙ্গের বিধ্বংসী প্রভাবের কথা বলেছেন। হাস্যরসের মাধ্যমে এ উপন্যাসে তিনি স্বামী মারা যাওয়া এক ৮০ বছর বয়সী নারীর পাকিস্তান চলে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন। এখানে তার অনবদ্য লেখনী, বিষয় প্রেক্ষাপট, কল্পনাশক্তি এবং নিঃসংকোচ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শ্রী তার পাঠকদের বিমোহিত করেছেন।

গীতাঞ্জলি শ্রীর নেট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ ডলার। একজন জনপ্রিয় ও পেশাদার লেখক হিসেবে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেছেন। তাকে ভারতের অন্যতম সফল লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গীতাঞ্জলি একজন তারকা লেখকও বটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অসংখ্য ভক্ত ও অনুরাগী রয়েছে। লেখালেখিকে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার

বুকার পুরস্কার যুক্তরাজ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার। এর আগে এটি আন্তর্জাতিক ম্যান বুকার পুরস্কার হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ম্যান বুকারের সমমানের এ পুরস্কারটি দেওয়া শুরু হয়। সে সময় পুরস্কারের জন্য অর্থ সহায়তা দিত ম্যান গ্রুপ। ‘বিশ^সাহিত্যের কথাসাহিত্যে একজন লেখকের সৃষ্টিশীল কাজের অংশ হিসেবে ধারাবাহিক সৃজনশীলতা, বিকাশ ও সামগ্রিক অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। মূলত যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত ওই লেখকের ইংরেজিতে লেখা বা ইংরেজি ভাষায় অনূদিত উপন্যাসকেই এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শিরোনাম নয়, বরং ওই লেখকের সামগ্রিক কাজের অবদানকে মূল্যায়ন করা হয়। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দুই বছর পরপর পৃথিবীর যেকোনো ভাষাভাষীর জীবিত আছেন এমন লেখককে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। তবে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর একজন লেখককে একটি মাত্র বইয়ের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষায় অনূদিত শিরোনামের বুকার পুরস্কার জেতা বইয়ের আর্থিক মূল্য হলো ৫০ হাজার পাউন্ড। এই অর্থ মূল্য লেখক ও অনুবাদক দুজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়।

সংক্ষিপ্ত তালিকা

আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২২-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় কোরিয়ান, নরওয়েজিয়ান, জাপানিজ, স্প্যানিশ, হিন্দি এবং পোলিশ-এ ছয়টি ভাষার উপন্যাস স্থান পেয়েছিল। গীতাঞ্জলি শ্রী ও ডেইসি রকওয়েলের সঙ্গে আরও পাঁচ বইয়ের লেখক ও অনুবাদকের বইও ছিল। জাপানের মিয়েকো কাওয়াকামি লিখেছেন ‘হেভেন’, এটি অনুবাদ করেছেন স্যাম বেট ও ডেভিড বয়েড। কোরিয়ার বোরা চুং লিখেছেন ‘কার্সড বান্নি’, এটি অনুবাদ করেছেন অ্যানটন হুর। নরওয়ের জন ফোসে লিখেছেন ‘এ নিউ নেম স্টোপোলজি-ছয়-সাত’, এটি অনুবাদ করেছে ড্যামিওন সেআর্লস। আর্জেন্টিনার ক্লদিয়া পিনেইরো লিখেছেন ‘এলেনা নোজ’, এটি অনুবাদ করেছেন ফ্রান্সেস রিডডেল। এ ছাড়া সাবেক বিজয়ী ওলগা তোকারচুক লিখেছেন ‘দ্য বুকস অব জ্যাকব’, এটি অনুবাদ করেছেন জেনিফার ক্রফট।

এর আগে একাধিক ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক ইংরেজি উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার পেয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ভি এস নাইপল, সালমান রুশদি, অনিতা দেশাই, অরুন্ধতী রায় ও কিরণ দেশাই।

প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক বুকারের বিচারক প্যানেলের সভাপতি ফ্র্যাঙ্ক ওয়েন বিবিসিকে বলেন, এই উপন্যাসটি পড়ে বিচারকদের সবাই খুবই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। এর মনোমুগ্ধকর বর্ণনারীতি ও তীক্ষè আবেগের ঢেউ সব বয়সীকে একটি দেশের এক উত্তাল সময়ে নিয়ে যাবে।’ ফ্র্যাঙ্ক আরও বলেন, এর আগে তিনি এমন উপন্যাস আর পড়েননি। তার ভাষায়, ‘প্রাণোচ্ছলতা’ আর ‘আবেগ’ এই উপন্যাসকে এমন একটি বইয়ে পরিণত করেছে, যা ‘এ মুহূর্তে বিশ্বের সব পাঠকের পড়া জরুরি।’ বুকার কমিটি দাবি করেছে, এমন গভীর ও কঠিন দর্শনকে এত সহজে ও সাবলীলভাবে এর আগে খুব কম লেখকই বলতে পেরেছেন।

পুরস্কার পাওয়ার পর গীতাঞ্জলি বলেন, ‘আমি কখনোই বুকার পাওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার ভাগ্যে এই পুরস্কার জুটবে তাও ভাবিনি। এ বিশাল স্বীকৃতি। আমি অভিভূত, বিস্মিত, সম্মানিত এবং কৃতজ্ঞ।’ টুম্ব অব স্যান্ডের অনুবাদক ডেইসি রকওয়েল বলেন, এর আগে অনুবাদের যতগুলো কাজ তিনি করেছেন, তার মধ্যে টুম্ব অব স্যান্ড সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল। শ্রীর লেখার ‘পরীক্ষামূলক ধরন’ ও তার ‘ভাষার স্বতন্ত্র ব্যবহার’-এর অন্যতম কারণ। তবে তিনি আরও বলেন, এই অভিজ্ঞতাটি ‘বেশ মজার’ ও ‘উপভোগ্য’ ও ছিল। ৬৫ বছর বয়সী গীতাঞ্জলি এখন রাজধানী দিল্লিতে বসবাস করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত