৬, ০, ১, ৭, ৮৮, ১৩*, ০, ৩৭, ০, ২, ৬, ৫, ২, ৯ ও ০।
টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হকের ফর্মহীনতার নমুনা। সর্বশেষ ১৫ ইনিংসে ১২.৫৭ গড়ে রান করেছেন ১৭৬ রান। ১২বার পারেননি এক অঙ্কের গণ্ডি পার হতে। চট্টগ্রামে ২ রান করার পর ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে করেন ৯ ও ০ রান। ব্যাটে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে অধিনায়কত্ব তো বটেই তাকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত কি না এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে মুমিনুল তার অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডপ্রধানের সঙ্গে আরেকবার এ নিয়ে তার বসার কথা। যদিও আসন্ন উইন্ডিজ সফরের জন্য ইতিমধ্যে মুমিনুলকে অধিনায়ক করেই টেস্ট দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘অধিনায়কত্ব বাড়তি একটা চাপ অবশ্যই। ব্যাটিং করার সময় সে রান না পাওয়ায় হয়তো বাকিদের অনুপ্রাণিত করতে সমস্যা হচ্ছে। যেহেতু রান করছে না, একটা হীনম্মন্যতা থাকতে পারে। সেটা থেকেই হয়তো চাপ বেশি হয়ে যাচ্ছে। ব্যাটিংয়েও এর একটা প্রভাব পড়তে পারে। হয়তো সে সিদ্ধান্ত নেবে কোনটা হলে ওর ভালো হয়। এটা নিয়েই আমাদের সঙ্গে বসার কথা আছে। প্রেসিডেন্ট সাহেব (পাপন) আসুক, এটা নিয়ে আলাপ করব।’
ফর্মহীনতা কাটাতে অবশ্য কঠোর পরিশ্রম করছেন মুমিনুল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ও কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা কাজ করেছেন। কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন। অনুশীলন শেষে নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘মুমিনুল বেশ লম্বা সময় ধরেই একটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় অনেকে ভালো করতে গিয়ে আরও খারাপ করে ফেলে। এগুলো করতে করতে মূল থেকেই সরে যায়। তাই মৌলিক দিকগুলো নিয়েই একটু কাজ করেছি। আমার মনে হয় একসময় মৌলিক দিকটা ভালো ছিল, এখন সেটা নেই।’ মুমিনুলের দ্রুত ফর্মে ফেরার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী, ‘আগের চেয়ে দেখতে ভালো লাগছে। আরও দু-এক দিন কাজ করলে ভালো হবে। মৌলিকতা থেকে বাইরে চলে গেলে এ পর্যায়ে ব্যাটিং করা খুব কঠিন। এটাই মূল কারণ। তাড়াতাড়ি কেটে গেলে ভালো করবে। দেখে মনে হচ্ছে বেশ কিছু বিষয় ঠিক হয়েছে, ব্যাটে-বলে ভালো হচ্ছে। আমার মনে হয় সামনে অনেক ভালো করবে।’
উইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলবে ১৬ জুন। সেদিনই হয়তো বোঝা যাবে খেটেখুটে ব্যাটিংয়ে কতটা উন্নতি করলেন তিনি। ওই সফরে ফর্মহীনতা কাটাতে না পারলে মুমিনুলের ওপর চাপ আরও দ্বিগুণ হবে।
