সুইফটের বিকল্প ব্যবস্থায় আগ্রহী সরকার

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ১১:০৫ পিএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আর্থিক লেনদেনের বৈশ্বিক সংস্থা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) রাশিয়ার অধিকাংশ ব্যাংকের লেনদেন সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশই বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। হংকং ও সিঙ্গাপুর থেকে নতুন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করারও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক এসব লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

এজন্য দেশ দুটির চালু করা নতুন পেমেন্ট সিস্টেম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম হংকং ও সিঙ্গাপুরের চালু করা নতুন পেমেন্ট সিস্টেম বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের কাছে কিছু ইনফরমেশন এসেছে, সুইফটের বাইরে হংকং এবং সিঙ্গাপুর নতুন কিছু পেমেন্ট সিস্টেম ডেভেলপ করেছে; যেগুলো ব্যবহার অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়। সেগুলো একটু এক্সপ্লোর করতে বলা হয়েছে।

নতুন পেমেন্ট সিস্টেমগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ওখানে (বৈঠকে) ছিলেন। তিনি এরই মধ্যে এগুলো নিয়ে বসেছেন। তাকে কয়েক দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হংকং থেকে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ফান্ডিং (অর্থ) তারা নিয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, তারা বলছে তোমরা যদি আমাদের সঙ্গে চুক্তিতে আসো, তাহলে তোমরা যখন এলসি ওপেন করবে, সেই এলসির বিপরীতে আমরা খুবই কম রেট অব ইন্টারেস্টে প্রডিউসারকে পে করে দেব।

‘তারপর তোমরা যখন রপ্তানি করবে, হয় তুমি আমাকে নগদে পরিশোধ করতে পারো, অথবা তুমি যদি এক্সপোর্ট করো... এগুলো গার্মেন্টসের জন্য খুবই সুবিধা। যখন এক্সপোর্ট করবে তখন আমার যে টাকাটা তোমার এক্সপোর্ট পেমেন্টের, সেটা আমার কাছে যাবে, আর তোমার এক্সসেস টাকা তোমার দেশে চলে যাবে। তাহলে ডলারও ইনটেক রয়ে গেল’Ñ যোগ করেন তিনি।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এ রকম কিছু সুবিধা সিঙ্গাপুর থেকেও অফার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে এটা নিয়ে কাজ করছে। আমি গতকাল (রবিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আমরা যেন একটু কমফোর্টেবলি যেতে পারি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয় এই সুইফট লেনদেনের মাধ্যমেই। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করার উদ্দেশ্যে সুইফট কোড ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) ও শ্রীলঙ্কার একটি ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাবে মোট ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হস্তান্তর করে একটি হ্যাকার গ্রুপ। তবে বানানের ভুলে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার তুলে নিতে পারেনি চক্রটি। তবে আরসিবিসির কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার তুলে নিয়ে হ্যাকার গ্রুপ ক্যাসিনোর মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ বের করে নিয়ে যায়। গত ছয় বছরে খোয়া যাওয়া টাকার কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে নিউ ইয়র্কের আদালতে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত