বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। সম্প্রতি তার পক্ষে হাইকোর্টে এ আবেদনটি করা হয় বলে জানান তার আইনজীবীরা। কার্যতালিকায় এলে সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে। মিন্নির পক্ষে শুনানি করবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
জেড আই খান পান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিন্নির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছিলেন হাইকোর্ট। এখন আমরা তার জামিনের আবেদন করেছি। এতে ঘটনার অভিযোগের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখসহ বেশকিছু গ্রাউন্ড (যুক্তি) তুলে ধরা হয়েছে। আদালতে শুনানির জন্য মেনশন স্লিপ জমা দেওয়া হয়েছে। কার্যতালিকায় এলে শুনানি হবে।’
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ঘটনায় একটি ভিডিওতে দেখা যায় রামদা হাতে দুজন রিফাতকে একের পর এক আঘাত করছে। আর মিন্নি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। ঘটনার পর ২ জুলাই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। কয়েকদিন পর মিন্নির শ্বশুর অভিযোগ করেন- পুত্রবধূ মিন্নিও এ হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের সঙ্গে মিন্নিকেও এ মামলায় আসামি করা হয়।
২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের রায় দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। বিচারিক আদালতের রায়ের পর ৪ অক্টোবর মিন্নিসহ ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি)-সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকার্টে আসে। দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ওই বছরের ৬ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে আপিলের আবেদন করেন মিন্নি। ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর মিন্নির খালাস আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ মামলায় মিন্নিকে দেওয়া অর্থদণ্ড ওই দিন স্থগিত করা হয়।
