‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক বারবার’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো স্লোগান দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
তিনি বলেন, সরকার ও সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে জুয়েল এ দাবি করেন।
জুয়েল লেখেন, ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক বারবার’... প্রথমত, ঢাবি ক্যাম্পাসে সমসাময়িক সময়ে এ ধরনের কোনো স্লোগান দেওয়া হয়নি। কোনো মাধ্যমেই কেউ ঢাবি ক্যাম্পাসে এই স্লোগান দেওয়ার সত্যতা প্রমাণ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, স্লোগানটি আমরা ৭ নভেম্বরে দিই। এর দ্বারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার সম্মিলিত পাল্টা-অভ্যুত্থান তথা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে বোঝানো হয়। হাতিয়ার শব্দ দ্বারা প্রতীকী অর্থে বিপ্লবকে বোঝানো হয়’।
‘একে কেউ অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে সেটা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে দাবি করেন জুয়েল।
সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে এই স্লোগান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের দাবি, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অরাজকতা তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছে এবং এ ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমার সামনে নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) বলছেন, পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। এই কথা শুনলে তরুণদের কি মাথা ঠিক থাকে। সন্ত্রাসী কি বাধা দেব না’?
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেবরা এসব স্লোগান শিখিয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিলে ছাত্রলীগ কি চুপ করে বসে থাকবে? নেত্রীকে অপমান করা হচ্ছে। এই অপমান কি আমরা সইতে পারি? এসব কটূক্তির প্রতিবাদ ছাত্রলীগ করেছে।’
এর জবাবে ছাত্রদল সম্পাদক জুয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যে অযৌক্তিক দাবি করছে তা প্রমাণ করতে আমি এ স্ট্যাটাস দিয়েছি সবার উদ্দেশ্যে। তা ছাড়া যে স্লোগান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আমরা ঢাবিতে যেতে চেয়েছিলাম, সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। সে সুযোগ ছাত্রলীগ আমাদের দেয়নি বরং আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
