মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলের (৩৪) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হচ্ছে নয়ন মণ্ডল (২৬), রিপন মণ্ডল (৩২), পীযূষ করাতি (২৫) ও দিলীপ চন্দ্র (২৬)। গ্রেপ্তাররা সবাই পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানম-ির পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআইয়ের প্রধান বনোজ কুমার মজুমদার।
তিনি বলেন, স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে অনুপ বাউলের সঙ্গে তার পার্টনার (অংশীদার) নয়ন মণ্ডলের দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরে অনুপকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ভেকু দিয়ে ১৬ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখে। এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে ছিল রিপন মণ্ডল, পীযূষ করাতি ও দিলীপ চন্দ্র রায়। গত বুধবার তাদের কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নয়ন ও তার সহযোগীদের দেখানো মতে যে ভেকু দিয়ে খনন করে মরদেহ পুঁতে রাখে, সেই ভেকু দিয়েই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই প্রধান জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পাই না ভৈরমনগর গ্রামে। শ্বশুরবাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে।
গত ৪ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ি থেকে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি অনুপ। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই বিপ্লব বাউল গত ৫ জানুয়ারি সিরাজদিখান থানায় জিডি করেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করা হয়। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সিরাজদিখান থানা-পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি পুলিশ এবং পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা তদন্ত শুরু করে।
থানা-পুলিশ মামলাটি প্রায় তিন মাস তদন্ত করে কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২১ এপ্রিল পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার পায়। তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) মো. সালে ইমরানের ওপর। তিনি প্রথমে রিপন এবং ড্রামে করে লাশ বহনকারী অটোচালক অধিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে রিপনকে চিহ্নিত করা হয়। তারপর অনেকটা নিশ্চিত হয়ে রিপন, পীযূষ, নয়ন ও দিলীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে রিপনের শনাক্ত করা লাশ গুমের জায়গায় চিহ্নিত করা হয়। তারপর গত বুধবার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) বোয়ালখালী সিরাজদিখানে রিপন তার নিজস্ব ভেকু চালিয়ে ১৬ ফিট গভীর বালির নিচ থেকে অনুপের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে দেয়।
