অতিরিক্ত আইজিপির বাসায় গৃহকর্মীর লাশ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ০২:৪৪ এএম

রাজধানীর রমনা অফিসার্স কোয়ার্টারে পুলিশের এক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের বাসা থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম মৌসুমী (১৪)। গত বুধবার বিকেলে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রমনা মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।

যে বাসা থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার হয় সেটি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ তারিকের বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রমনা মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময় অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মোহাম্মদ তারিক বাসায় ছিলেন না। রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ হিসেবে তার কর্মস্থলেই ছিলেন। বাসায় ছিলেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। তারা কিছুই বলতে পারেন না। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে মেয়েটি (মৃত কিশোরী) সিজোফ্রেনিয়া রোগে ভুগছিল। মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। যদিও চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমাদের হাতে নেই। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে গৃহকর্মী মৌসুমীর মরদেহ পুলিশের মাধ্যমে তার বোন ও নানির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা লাশ নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রমনা অফিসার্স কোয়ার্টারের ‘শিমুল’ নামে একটি ভবনের ১৩ তলার ছাদের বারান্দা থেকে মৌসুমীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। মৌসুমীর মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন রমনা থানার এসআই আমেনা খানম। 

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির দাগ রয়েছে। অজ্ঞাত কোনো কারণে মৌসুমী ১৪/এ নম্বর শিমুল বিল্ডিংয়ের ১৩ তলার ছাদের বারান্দায় ফ্যানের হুকের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, মৌসুমীর বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে। মৌসুমীর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। মা ফরিদা অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে যান। এরপর থেকে নানির কাছে থাকত মৌসুমী। তবে মর্গে তার কোনো স্বজনকে দেখা যায়নি। মৌসুমীর মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন আফরোজ। লাশ উদ্ধারের সময় ছিলেন রমনা থানার এসআই ইউনুছ আলী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকেলে খবর পেয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারের বাসা থেকে ওই গৃহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করি। এ সময় বাসার বেলকনিতে লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল লাশটি।’

গৃহকর্মী মৌসুমীর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মেয়েটি সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। তার চিকিৎসাও চলছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত