চাঁদপুর সদরের ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খানকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপ, দলের সুনাম ক্ষুন্ন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, সেলিম খানের দুর্নীতি, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে দলের সভায় তাকে বহিষ্কারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবু নঈম পাটওয়ারী জানান, সভায় হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূর হোসেন পাটোয়ারীকেও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুর রব ভূইয়া, আবদুর রশিদ সর্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী, মঞ্জুর আহমেদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ৯ জন সদস্যসহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন তিনি। তবে ২০০৯ সালের আগে সেলিমের পারিবারিক অবস্থাও তেমন সচ্ছল ছিল না। ওই বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে তিনি জেলা বিএনপির প্রভাবশালীদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন। তার আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন সেলিম খান।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ও ওই এলাকার সংসদ সদস্য দীপু মনির সঙ্গে সখ্য তৈরি করেন সেলিম খান। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে মেঘনা-পদ্মার বিশাল এলাকা জুড়ে বালু তোলার কাজ শুরু করেন। এর থেকে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি তার আয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণে সেলিম খানের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব করা জায়গার বড় অংশটি নামে-বেনামে কিনে নেন তিনি। এসব জমির দলিল করতে গিয়ে মৌজা দরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। আর যাদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছে, তারা নামমাত্র টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। দুদকও প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
