আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখত একদল। তারা যানবাহন টার্গেট করত। পূর্বপরিকল্পিত নির্ধারিত স্থানের এসব তথ্য তারা জানিয়ে দিত মূল দলকে। এরপর মূল দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য গাছ কেটে আটকে দিত রাস্তা। অন্যরা অস্ত্রের মুখে দ্রুত যাত্রী ও চালককে জিম্মি করে সব লুটে নিত। গাছ কাটার সুযোগ না পেলে চালকের চোখে শক্তিশালী টর্চের আলো ছুড়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য করত।
আন্তঃজেলা ডাকাত দল ‘ঠান্ডা ও শামীম বাহিনীর’ মূল হোতা শামীম ও তার প্রধান সহযোগী আনিসুর ওরফে ঠা-াসহ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব এসব তথ্য জানিয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে র্যাব-৩ এর একটি দল সাভার থানাধীন বলিয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। র্যাব জানিয়েছে, এই ডাকাত দলটির সদস্যরা দিনে পোশাক কারখানা, ইটভাটা, পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আর রাত হলে ডাকাতিতে নামে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ওই দুজন ছাড়াও আছে সালাউদ্দিন, ইখতিয়ার উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর সরকার, সজিব ইসলাম, জীবন সরকার, মিনহাজুল ইসলাম, স্বপন চন্দ্র রায় ও মাধব চন্দ্র সরকার। তাদের বাড়ি বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও রংপুর এলাকায়।
তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল. একটি পাইপগান, দুটি এয়ার শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, একটি শাবল, একটি চাপাতি, দুটি রামদা, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি করাত, একটি হাউজ কাটার, দুটি হ্যাক্সো ব্লেড, একটি দেশি কুড়াল, দুটি লেজার লাইট ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, বাহিনীর মূলহোতা ও তার প্রধান সহযোগীর নাম অনুসারে ডাকাত দলের নাম হয় ‘ঠান্ডা-শামীম বাহিনী’।
কমান্ডার মঈন বলেন, ‘এই চক্রের অন্যতম পরিচালক আনিসুর রহমান ঠাণ্ডা ২০০৪ সালে জয়পুরহাটে গরু চুরির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধে যুক্ত হয়। এরপর সে শতাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জড়িত হয়। চক্রটির আরেক পরিচালক শামীমের সঙ্গে আনিসুর ঠাণ্ডার পরিচয় হয় ২০১৬ সালে। তারা দুজনেই বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল।’ তিনি বলেন, কারাগারে থাকার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অপরাধীদের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। পরে জামিনে বেরিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ডাকাত দল গড়ে তোলে। এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এখন ২৫ জন।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আনিসুর ওরফে ঠা-া শামীম ও সালাউদ্দিন একত্রে বসে ডাকাতির মূল পরিকল্পনা করে। কোন জায়গায় কখন কীভাবে ডাকাতি করা হবে সেটার তথ্য সংগ্রহের জন্য কাকে নিয়োগ করা হবে কীভাবে ডাকাতি হবে, মালামাল কোথায় বিক্রি হবে এসব বিষয় পরিকল্পনা করা হয়। গ্রেপ্তার ইখতিয়ার বিভিন্ন সময়ে ডাকাতির ধরন অনুযায়ী মিনি ট্রাক ও মাইক্রোবাস চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করত। রাজমিস্ত্রি সাইফুল ডাকাতির মালামাল বিক্রির দায়িত্ব পালন করত। মিনহাজুল ও মাধবচন্দ্র কাজ করত তথ্যদাতার। তিনি আরও জানান, এরাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে ঠান্ডা-শামীম বাহিনীকে যোগাযোগ করিয়ে দিত।
